উদ্দীপকে ডাক্তার বলেছেন যে, নারী ও পুরুষের প্রজননিক সমস্যার কারণে গর্ভধারণে বিলম্ব বা বাঁধা আসে। নিম্নে প্রজননিক সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
নারীর প্রজনন অক্ষমতার কারণ নিম্নরূপ: সংক্রমণ রোগ, এন্ডোমেট্রিওসিস, পেলভিক সার্জারি যা অন্য কোন কারণে ফেলোপিয়ান নালি বিনষ্ট হলে নারীরা প্রজনন অক্ষম হয়। হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থি স্বাভাবিকভাবে হরমোন ক্ষরণে ব্যর্থ হলে ডিম্বাশয়ের ফলিকল পরিপক্ক হয় না অথবা ডিম্বাণু সঠিক সময়ে ডিম্বাশয় থেকে বের হয় না। জরায়ুতে পলিপ, ফাইব্রয়েড সিস্ট বা টিউমার থাকলে বা জন্মগতভাবে জরায়ু ভ্রূণ ধারণ করতে পারে না। অকালে মেনোপজ হলে, ডায়াবেটিস হলে, ধূমপান করলে, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করলে নারীর প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
পুরুষের প্রজনন অক্ষমতার কারণ: বীর্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শুক্রাণু না থাকলে বা মৃত শুক্রাণু বা শুক্রাণুবিহীন থাকলে পুরুষ প্রজননে অক্ষম হয়। শুক্রাশয়ের কিছু রক্তনালি ফুলে গিয়ে শুক্রাণুর গতিরোধ করে এবং শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দেয়। কিছু যৌন বাহিত রোগ (যেমন- গনোরিয়া, মাম্পস, সিফিলিস) দ্বারা প্রজননতন্ত্র আক্রান্ত হলে জনন ক্ষমতা কমে যায়। কোন কারণে শুক্রাণু উৎপাদনে সক্ষম পুরুষ অনেক সময় সঙ্গমের সময় বীর্যত্যাগ করতে না পারলে প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। টেস্টোস্টেরন ও অন্যান্য যৌন হরমোনের অস্বাভাবিক ক্ষরণ প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শুক্রনালি নষ্ট হয়ে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে এবং কিছু ওষুধ যেমন- স্টেরয়েড প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পারমাণবিক বিকিরণ, এক্সরে, অতিমাত্রার তাপ, আঘাত, অ্যালকোহল সেবন ইত্যাদিও প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।