উদ্দীপকের R হলো জাইগোট। জাইগোট এর পরিস্কুটনে প্রাণী সৃষ্টি একটি ধারাবাহিক প্রকইরয়া। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্লিভেজ: ভ্রণ গঠনের প্রথম প্রক্রিয়া হলো জাইগোটের বিভাজন বা ক্লিভেজ। ১ম ও ২য় ক্লিভেজ ঘটে লম্বভাবে। ফলে জাইগোটটি যথাক্রমে ২ কোষী ও ৪ কোষী ভ্রূণে পরিণত হয়। তৃতীয় ক্লিভেজ ঘটে অনুপ্রস্থভাবে ফলে ৮ম কোষী ভ্রণ গঠন করে।
২. মরুলা: ৮ম কোষী ভ্রণের ৪টি কোষ ছোট, এগুলো হলো মাইক্রোমিয়ার। এরা দ্রুত বাড়ে। ৪টি বড় কোষকে বলে ম্যাক্রোমিয়ার। এরা ধীরে ধীরে বিভাজিত হয়৷ কোষগুলো বিভাজনের ফলে ভ্রণটি একটি নিরেট গোলাকার বহুকোষী ভ্রণে পরিণত হয়৷ এ দশার ভ্রণকে মরুলা বলে ।
৩. ব্লাস্টুলা: মরুলার কোষগুলো ক্রমশ একস্তরে সজ্জিত হয় এবং ভেতরে একটি তরলপূর্ণ গহ্বর সৃষ্টি করে। ভ্রণের এ দশাকে ব্লাস্টুলা বলে।
৪. গ্যাস্টুলা: যে প্রক্রিয়ায় একস্তরী ব্লাস্টুলা দ্বিস্তরী বা ত্রিস্তরী গ্যাস্ট্রুলা গঠন করে তাকে গ্যাস্টুলেশন বলে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া । এ প্রক্রিয়ার শুরুতে ব্লাস্টুলার একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল ক্রমান্বয়ে ব্লাস্টোসিলের ভেতরের দিকে প্রবেশ করে। ফলে ব্লাস্টুসিল অবলুপ্ত হয় এবং 'দু'স্তর কোষবিশিষ্ট একটি কাপের ন্যায় গঠন সৃষ্টি করে। এ দশাটি গ্যাস্টুলা। এর ভেতরের গহ্বর হলো আর্কেন্টেরন। গহ্বরটি যে ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত হয় তাকে ব্লাস্টোপোর বলে । গ্যাস্টুলেশন পর্যায়ে কোষগুলোর পরিযানের কারণে মানুষের ভ্রণের তিনটি স্তর সৃষ্টি হয়, বহিস্থ এক্টোডার্ম, মধ্যস্থ মেসোডার্ম এবং অন্তস্থ এন্ডোডার্ম ৷
৫. অর্গানোজেনেসিস: গ্যাস্টুলেশন পর্যায়ে সৃষ্ট ভ্রণের তিনটি স্তর থেকে অঙ্গকুড়ি সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অর্গানোজেনেসিস বলে। প্রথমে, তিনটি স্তর থেকে ছোট ছোট কোষগুচ্ছ সৃষ্টি হয়। প্রত্যেক কোষগুচ্ছ থেকে প্রাণিদেহের নির্দিষ্ট অঙ্গ বা অংশ গঠিত হয়। পরবর্তীতে এ অঙ্গগুলো ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে শিশু প্রাণী তাদের নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি ধারণ করে।