উদ্দীপকে উল্লিখিত আরিফ সাহেবের স্ত্রীর সমস্যা স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণে অক্ষমতা। নিচে আরিফ সাহেবের স্ত্রীর সমস্যাটির নানাবিধ কারণ নিচে ব্যাখ্যা কর হলো—
১. স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ফেলোপিয়ান নালির মাধ্যমে শুক্রাণু পরিবাহিত হয়ে ডিম্বাণুর সান্নিধ্যে আসে। সংক্রমণ রোগ, পেলভিক সার্জারি কিংবা অন্য কোনো কারণে এ নালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নারীরা প্রজননে অক্ষম হয়ে পড়ে। এছাড়া দৈহিক যেকোনো কারণে এ নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা বাঁকা হয়ে গেলে ডিম্বাণু জরায়ুতে আসতে পারে না। আবার শুক্রাণুও জরায়ু থেকে নালির মধ্যে ঢুকতে পারে না। ফলে নারী প্রজননে অক্ষম হয়।
২. হরমোনজনিত কারণে স্ত্রীদের ডিম্বাণু সঠিকভাবে পরিপক্ব হয় না অথবা ডিম্বাণু সঠিক সময়ে ডিম্বাশয় থেকে বের হয় না। ফলে অক্ষমতা দেখা দেয়।
৩. অনেক নারীর জরায়ুমুখে অতিরিক্ত মিউকাস সৃষ্টি হয় অথবা সার্জারির ফলে সৃষ্ট সমস্যা হওয়ার কারণে ডিম্বাণু জরায়ুতে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে গর্ভধারণে অক্ষমতা সৃষ্টি হয়।
৪. জরায়ুতে টিউমার বা ক্যান্সার হলে, কিংবা জন্মগতভাবে জরায়ুর গঠনে ত্রুটি থাকলে এটি সন্তান ধারণ করতে পারে না। অক্ষমতার এটাও একটি কারণ।
৫. ডিম্বপাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে অক্ষমতা সৃষ্টি হয় ।
৬. জরায়ুর ক্ষতজনিত সমস্যার কারণে প্রায় ৫% — ১০% নারী প্রজননজনিত জটিলতায় ভোগে৷
৭. অকালে মেনোপজ হলে, ডায়াবেটিস হলে, স্টেরয়েড ঔষধ সেবন করলে, অতিরিক্ত মদ্যপান করলে, দেহের ওজন অতিরিক্ত হলে নারীর প্রজনন ক্ষমতা থাকে না।
উপরে উল্লেখিত কোনো একটি সমস্যার কারণে আরিফ সাহেবের স্বাভাবিক গর্ভধারণে অক্ষম।