উদ্দীপকের সাথে ঘাসফড়িং-এর সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্গের কার্যপদ্ধতির তুলনা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের চিত্রটি মানব চক্ষু- যা কি-না মানুষের দর্শন কাজে ব্যবহৃত হয়। মানব চক্ষুর সাথে ঘাসফড়িংয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্গ হলো পুঞ্জাক্ষি। নিচে মানবচক্ষুর সাথে ঘাসফড়িংয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্গ অর্থাৎ পুঞ্জাক্ষির কার্যপদ্ধতির তুলনা করা হলো- মানুষের চোখের পাতা যখন খোলা থাকে তখন বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি ক্রমান্বয়ে কর্নিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমার, পিউপিল, লেন্স ও ভিট্রিয়াস হিউমার-এর মধ্য দিয়ে রেটিনায় এসে পড়ে। আপতিত আলোকরশ্মি লেন্সের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিসৃত হয়ে রেটিনার ফোবিয়া সেন্ট্রালিসের উপর একগুচ্ছ অভিসারী রশ্মিরূপে প্রতিফলিত হয়। ফলে, রেটিনার উপর বস্তুটির সংক্ষিপ্ত ও উল্টা প্রতিবিম্বের সৃষ্টি হয়। রেটিনার আলোকসংবেদী রড এবং কোন কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে এ আলো অনুভূতি মস্তিষ্কের দৃষ্টিকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়। মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় অজ্ঞাত উপায়ে উল্টা প্রতিবিম্ব সোজা হয়ে যায়, ফলে মানুষ বস্তুটিকে সোজা দেখতে পায়। অন্যদিকে ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষি যা অনেকগুলো দর্শন একক বা ওমাটিডিয়াম নিয়ে গঠিত। ঘাসফড়িং ওমাটিডিয়ামের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তুকে অবলোকন করে থাকে। দিনের উজ্জ্বল আলো ও দিনের শেষে মৃদু আলো দুসময়েই ঘাসফড়িংয়ের দৃষ্টিশক্তি কার্যকর থাকে। মৃদু আলোর সুপারপজিশন এবং উজ্জ্বল আলোয় অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব গঠন করে। প্রতিবিম্বের সংবেদন অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌছালে ঘাসফড়িং তা দেখতে পায়। নিচে প্রক্রিয়া দুটি বর্ণনা করা হলো- উজ্জ্বল আলোতে দর্শন কৌশল উজ্জ্বল আলোতে গঠিত প্রতিবিম্বটি মোজাইক বা অ্যাপোজিশন নামে পরিচিত। দিনের বেলায় এ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এ দর্শন প্রক্রিয়ায় ওমাটিডিয়ামের আইরিশ রঞ্জক আবরণী ও রেটিনুলার আবরণী সম্পূর্ণরূপে প্রসারিত হয়। এতে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামের দু'পাশে অনুদৈর্ঘ্য কালো বিভেদক পর্দা সৃষ্টি করায় দর্শনবস্তু হতে আসা আলোকরশ্মি কর্নিয়াতে পড়লে তা ক্রিস্টালাইন কোন হয়ে সোজাসুজি র্যাবডোমে প্রবেশ করে এবং র্যাবডোমে তার প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। স্তিমিত আলোতে দর্শন কৌশল স্তিমিত আলোতে আইরিশ রঞ্জক আবরণ, ও রেটিনুলার সিথ উভয়ই সংকুচিত অবস্থায় থাকে। এক্ষেত্রে রঞ্জক আবরণ কর্নিয়ার দিকে এবং রেটিনুলার সিথ র্যাবডোমের নিচে ভিত্তি পর্দার দিকে সরে আসে। ফলে বাইরের নির্দিষ্ট কোনো কিছু থেকে আগত আলোকরশ্মি বিভিন্ন র্যাবডোমে পৌঁছায়। এতে একেকটি র্যাবডোমের নিজস্ব কর্নিয়ার আলো ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কর্নিয়ার আলো এসে পৌছায় এবং বস্তুর একটি মসৃণ প্রতিবিম্ব গঠন করে। এসকল - প্রতিবিম্ব একটির উপর আরেকটি পড়ে বস্তুটির একটি অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। এ ধরনের প্রতিবিম্বকে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব বলে। | সুতরাং মানবচক্ষু ও ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষির কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণপূর্বক বলা যায় যে, উভয়ের দর্শন কৌশলে যথেষ্ট ভিন্নতা রয়েছে।
HSC Biology 2nd Paper Chapter 8: সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 2nd Paper · Chapter 8: সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ · সৃজনশীল
উদ্দীপকের সাথে ঘাসফড়িং-এর সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্গের কার্যপদ্ধতির তুলনা কর।
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর