উদ্দীপকের আলোকে বিভিন্ন গ্রন্থি হতে নিঃসৃত হরমোনের অস্বাভাবিক ক্ষরণ মানুষের জন্য অমঙ্গলজনক বা অনিয়ন্ত্রিত। কেননা অস্বাভাবিক বা অনিয়ন্ত্রিত হরমোন ক্ষরণ চলতে থাকলে দেহে বিভিন্ন জটিলতা তথা বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে, যা কখনই মানুষের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
শৈশবকালে পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত STH হরমোন অধিক ক্ষরিত হলে মানবদেহের দৈর্ঘ্য অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে দৈত্যত্ব রোগ হয়। শিশুকালে পরিমিত পরিমাণে GH ক্ষরিত না হলে শিশুদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে বামনত্ব রোগ হয়। বয়ষ্ক অবস্থায় অতিরিক্ত GH এর ফলে মানুষের হাত ও মুখমণ্ডলের অস্থি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে গরিলার মতো রূপ ধারণ করে। . এ অবস্থার নাম গরিলাত্ব। বয়স্কদের থাইরক্সিন নিঃসরণ কম হলে চামড়া পুরু, খসখসে ও লোমহীন, গলার স্বর মোটা, চোখ-মুখ ফোলাফোলা দেখায়। এ রোগকে মিক্সিডিমা বলে। শিশুদের থাইরক্সিন নিঃসরণ কম হলে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, জড় বুদ্ধি সম্পন্ন ও অলস প্রকৃতির হয়। এ রোগের নাম ক্রিটিনিজম। T₁ বা থাইরক্সিন কম নিঃসরণে থাইরয়েড গ্রন্থি অনেক বড় হয়ে ঘ্যাগ বা গয়টার সৃষ্টি হয়। ইনসুলিন হরমোনের নিঃসরণ কম হলে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় ও মূত্রে শর্করা নির্গত হয়। এ রোগকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে। প্যারাথরমোন কম • ক্ষরণ হলে পেশির অস্থিরতা, খিঁচুনি দেখা দেয়। এ রোগের নাম টিটেনি। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি নিঃসৃত কর্টিসল হরমোন ক্ষরণ অনিয়ন্ত্রিত হলে মানুষের বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগ, যেমন- অ্যালার্জি, আর্থাইটিস হয়।