উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানুষের কান। ইহা দেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অস্থিসমূহ, যথা- ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস নিয়ে গঠিত। কান মানুষের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। উভয় কাজে অস্থিসমূহের ভূমিকা নিয়ে যুক্তিসহ উপস্থাপন করা হলো-
শ্রবণ কৌশল: বহিঃকর্ণের পিনায় সংগৃহীত শব্দতরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে উঠে। কাঁপনের ফলে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে ককলিয়ার অর্গান অব কর্টির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। এরপর বাকি শব্দ তরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে মধ্যকর্ণে চলে আসে এবং প্রশমিত হয়ে যায়।
ভারসাম্য রক্ষা: মানুষের অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাসের অর্ধবৃত্তাকার নালিসমূহ, ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাস (ককলিয়া ব্যতীত) ভারসাম্য সংবেদী অঙ্গ গঠন করে। অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাসের নানা জায়গায় কতকগুলো সংবেদী কোষগুচ্ছ থাকে। কোষগুলো থেকে সংবেদী রোম বের হয়। রোমগুলোর চারদিকে এন্ডোলিম্ফে ভাসমান ওটোলিথ নামে অনেকগুলো চুনময় পদার্থ সংবলিত জেলির মতো কোণাকার ক্যুপুলায় আবৃত থাকে। মানুষের মাথা কোনো এক তলে হেলে গেলে ঐ পাশের ওটোলিথগুলো ক্যুপুলার সংবেদী রোমের সংস্পর্শে আসে, ফলে সংবেদী কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়। এ উদ্দীপনা স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌছালে মানুষ দেহের আপেক্ষিক অবস্থান বুঝতে পারে। তখন মস্তিষ্কের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পেশির সংকোচনে মাথা আবার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে দেহের ভারসাম্য রক্ষিত হয়।