উদ্দীপকে দেহের বাইরের যে বিশেষ কিছু অঙ্গের কথা বলা হয়েছে তা মূলত প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। এই বিশেষ অঙ্গগুলোর মধ্যে প্রথমে রয়েছে ত্বক।
ত্বক একটি কার্যকর প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করে, কারণ এটি-
i. গাঠনিকভাবে কেরাটিনময়, বায়ুরোধী, পানিরোধী ও অধিকাংশ পদার্থের প্রতি অভেদ্য।
ii. সবসময় প্রতিস্থাপিত হয়।
iii. এসিডিক PH এবং
iv. ঘাম গ্রন্থি ও স্বেদ গ্রন্থিযুক্ত।
ত্বকীয় গ্রন্থি নিঃসৃত ঘাম ও তৈল ব্যাকটেরিয়ার জন্য বিষস্বরূপ। ত্বকে বিদ্যমান মিথোজীবী অণুজীব সংক্রামক অণুজীবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এছাড়া শ্বাসনালিতে বিদ্যমান সিলিয়া ও মিউকাস অবিরাম ধূলিকণা ও জীবাণু আটকায় এবং ক্ষতিকর কণা হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে বের করে দেয়। পাকস্থলিতে বিদ্যমান HCI খাদ্যের সাথে আগত অণুজীব ধ্বংস করে। যোনিতে বিদ্যমান মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটিক এসিড উৎপন্ন করে অণুজীবের সংক্রমণ রোধ করে। লালা, অশ্রু, মূত্র ও ঘাম এ বিদ্যমান লাইসোজাইম এনজাইম দেহে আগত অধিকাংশ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে। আবার ক্ষতস্থানে দ্রুত রক্ততঞ্চনের মাধ্যমে দেহে অণুজীব প্রবেশ রোধ হয়। বহিঃকর্ণের সিরুমেন বহিরাগত কণাসমূহকে আটকে খইলে পরিণত করে। এভাবেই, দেহের বাইরের অঙ্গসমূহের মাধ্যমে ভৌত-রাসায়নিক প্রতিবন্ধক গড়ে উঠে এবং দেহ প্রাথমিকভাবে রোগ-জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পায়।