উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো ত্বক। আমাদের দেহের সুরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা আলোচনা করা হলো:
১. মানবত্বকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সবসময় থাকে, কিন্তু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ত্বকে বাঁচতে পারেনা। এর কারণ হচ্ছে ত্বকের স্বেদ গ্রন্থি ও ঘাম গ্রন্থি থেকে যথাক্রমে যে তেল বা ঘাম ক্ষরিত হয় তা ত্বককে এসিডিক (PH 3.0-5.0) করে তুলে। অন্যদিকে ত্বকে যেসব অক্ষতিকর উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে সেগুলো যে প্রকার এসিড বা বিপাকীয় বর্জ্য ত্যাগ করে সে সব পদার্থ ও ত্বকের ক্ষতিকর জীবাণু দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। যেমন - যোনিতে যে ব্যাকটেরিয়া বাস করে তা ল্যাকটিক অ্যাসিড ক্ষরণ করে PH মাত্রা কমিয়ে দেয়। কেউ এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে এসব ব্যাকটেরিয়া মারা যেতে পারে, ফলে যোনিদেশে PH বেড়ে যায়। এ সুযোগ সেখানে Candida বা অন্যান্য অনুজীবের বংশবৃদ্ধি ঘটে ক্ষত রোগের সৃষ্টি করে।
২. ত্বক কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে ব্যাকটেরিয়ায় প্রবেশ ও অভ্যন্তরীণ টিস্যুতে সংক্রমনের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। কাটা স্থান দিয়ে নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে শুধু রক্তক্ষরণ বন্ধ করে না, বাইরে থেকে অনুজীব প্রবেশে ও বাধা দেয়। দ্রুত আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এ প্রকৃতির চিকিৎসা সত্যিই আশ্চর্যজনক।
৩. দেহের সিক্ত অংশগুলো সব সময় কোন না কোন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ঝুকিতে থাকে। অনেক অংশ আবার ব্যাকটেরিয়া নাশক ও বহন করে, যেমন- অশ্রু, নাসিকা ঝিল্লি ও লালায় লাইসেজাইম, সিমেমে স্পার্মিন, দুধে ল্যাপটপারঅক্সিডেস ইত্যাদি।
৪. কানের ভেতরে সেরুনিমাস গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত সেরুমেন বাগানের মোম কানের গভীরে ধুলাবালি, ব্যাকটেরিয়া ও ছোট প্রকার প্রবেশ প্রতিরোধ করে। সেরুমিনাস গ্রন্থি এক ধরনের ত্বকীয় গ্রন্থি।