উল্লেখিত কনিকাটি হলো শ্বেতরক্তকণিকা।
শ্বেতরক্তকণিকায় ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দেহে প্রবিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের দুই ধরনের ফ্যাগোসাইটিক কোষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন কর১)ম্যাক্রোফেজ ও ২) নিউট্রোফিল।
এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় দেহ অনুপ্রবেশকারী জীবাণুম ভক্ষণ বা ধ্বংসের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা দান করে। ইমিউন তন্ত্রের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে সমন্বিত কার্যকর ফ্যাগোসাইটোসিস চালু রাখা। ফ্যাগোসাইটোসিস বিভিন্ন ধাপে রোগজীবাণু সমুহ গ্রাস করে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো -
মনোসাইট হচ্ছে বৃক্ষাকার ও দানাহীন সাইটোপ্লাজম বিশিষ্ট শ্বেত রক্তকণিকা। মনোসাইট পরিণত হলে তাকে ম্যাক্রোফেজ বলে। ম্যাক্রোফেজ ক্ষনপদীয় চলন এর সাহায্যে স্থানান্তরিত হয় এবং ইমিউন সারাদানে মূল ভূমিকা পালন করে। ইমিউনতন্ত্রের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ম্যাক্রোফেজ নিউট্রোফিলের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ফ্যাগোসাইট হিসেবে কাজ করে। তখন একটি ম্যাক্রোফেজ প্রায় ১০০ টির মতো ব্যাকটেরিয়া গ্রাস করতে পারে। এরপর আসে নিউট্রোফিল । নিউট্রোফিল হচ্ছে ১২-১৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসসম্পন্ন,২-৫ খন্ড বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসযুক্ত সূক্ষ্ম দানাময় সাইটোপ্লাজম বিশিষ্ট শ্বেতরক্তকণিকা। এসব কণিকা ক্ষণপদীয় চলন প্রদর্শন করে। নিউট্রোফিল হচ্ছে সক্রিয় ফ্যাগোসাইটিক শ্বেত রক্তকণিকা। এগুলো বহিরাগত ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা যেকোনো অণুবীক্ষণিক প্রোটিন কণা গ্রাস করে নেয়। একটি নিউট্রোফিল তিন থেকে বিশটি ব্যাকটেরিয়া গ্রাস করতে পারে।
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এ প্রক্রিয়ায় প্রথমে ম্যাক্রোসাইট সক্রিয় হয়।ম্যাক্রোসাইটগুলো যখন সংক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়ার বিভিন্ন রাসায়নিক ক্ষরণে উদ্দীপ্ত হয়ে ক্ষতস্থানে জড়ো হতে থাকে সে প্রক্রিয়াকে বলে কেমোট্যাক্সিস। এরপর অনুজীবের ভক্ষণ হয় । সক্রিয় হওয়ার পর ক্রমশ অনুজীবের দেহতলের সংস্পর্শে এলে ফ্যাগোসাইটে দ্রুত যে ভৌত রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে তার ফলে ফ্যাগোসাইট ক্ষণপদ সৃষ্টি করে অনুজীব ভক্ষণে উদ্যত হয় এবং মাত্র ০.০১ সেকেন্ডে একটি ব্যাকটেরিয়াম ভক্ষণ সম্পন্ন করতে পারে । এভাবে শ্বেত রক্তকণিকা জীবনু ভক্ষণ করে।