উদ্দীপকের তন্ত্রটি হলো ইমিউনতন্ত্র। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য তন্ত্রটির ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক নাসিকা ছিদ্র, মুখ ছিদ্র, ত্বক, জনন ছিদ্র ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের দেহে প্রবেশ করে আবার আমাদের অজান্তেই অধিকাংশ জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। দেহের ভিতরে ও বাইরে রোগ জীবাণু ধ্বংসের এক জটিল ব্যবস্থাপনা রয়েছে যা ইমিউনতন্ত্র নামে পরিচিত। মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ৩টি স্তরে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরে ত্বক, সিলিয়া ও মিউকাস, লোম, লাইসোজাইম এনজাইম, সিরুমেন, পৌষ্টিক নালির এসিড, রক্ত তঞ্চন, রেচন- জননতন্ত্রের এসিড ইত্যাদি প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে দেহকে রোগজীবাণু মুক্ত রাখে।
২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: নিম্নলিখিত ৬ ধরনের নন-স্পিসিফিক ২ প্রতিরক্ষা পদ্ধতি নিয়ে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর গঠিত। যেমন- ফ্যাগোসাইট, সহজাত মারণকোষ, প্রদাহ, কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম, ইন্টারফেরন ও জ্বর। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে দেহের ভিতরে বিদ্যমান জীবাণু ধ্বংস হয়ে থাকে যদিও ধ্বংস না হয় তবে তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর কাজ করে।
৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর বহিরাগত অণুজীব বা কণা কোনোভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে দেহে অনুপ্রবিষ্ট হলে প্রতিরক্ষা স্তরের সর্বোত্তম সক্রিয়, শক্তিশালী ও স্থায়ী অনাক্রম্য সাড়ার সম্মুখীন হয়। তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর সহজাত ও অর্জিত এ দুই ধরনের। সহজাত যা জন্মগতভাবে প্রাপ্ত আর অর্জিত যা ভ্যাক্সিন বা টিকার মাধ্যমে প্রাপ্ত।
সুতরাং বলা যায় মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ইমিউনতন্ত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।