উদ্দীপকের শেষ লাইন হলো রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো টিকা প্রদান। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
টিকা গ্রহণ বা ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে দেহে রোগের জীবাণুর নিষ্ক্রিয় অবস্থা ঢুকানো হয় যার ফলে বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয় যা সক্রিয় জীবাণু প্রবেশ করলে বাধার সৃষ্টি করে। রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বা জীবাণুর নির্যাস বা জীবাণু সৃষ্ট পদার্থ (টক্সিন) কিংবা সংশ্লেষিত বিকল্প পদার্থ থেকে উৎপন্ন যে বস্তু অ্যান্টিজেনের মতো আচরণ করে দেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্নে উদ্দীপনা জোগায় এবং এক বা একাধিক রোগের বিরুদ্ধে দেহকে অনাক্রম্য করে তোলে তাকে ভ্যাক্সিন বলে।
শরীরে মারাত্মক রোগের ভ্যাক্সিন দেওয়া থাকলে ভবিষ্যতে ঐসব রোগ দেহকে অসুস্থ করতে পারে না। ড. এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে সর্বপ্রথম গুটি বসন্তের ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে যুগান্তকারী ভ্যাক্সিন বিপ্লব ঘটিয়ে মানুষের রোগমুক্ত দীর্ঘ সুন্দর জীবনের যে প্রত্যাশা জাগিয়েছেন তার ধারাবাহিকতায় আজ দ্বিতীয় জেনারেশন ভ্যাক্সিন হিসেবে হেপাটাইটিস B-ভ্যাক্সিন উৎপন্ন হয়েছে। জীবাণুর অংশবিশেষসহ ভ্যাক্সিন যে দেহে প্রবেশ করে অ্যান্টিবডি সৃষ্টির মাধ্যমে ওই নির্দিষ্ট জীবাণুর প্রতি দেহকে অনাক্রম্য করে তোলে। মানবদেহে দু'ভাবে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। যথা- অসুস্থ হলে এবং ভ্যাক্সিন নিলে। ভ্যাক্সিন গ্রহণের ফলে সৃষ্ট অ্যান্টিবডি দেহে দীর্ঘদিন বা আজীবন উপস্থিত থাকে। অ্যান্টিবডিগুলো জানে কিভাবে জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হতে হয়। অতএব, ভ্যাক্সিন নেওয়ার পর ভবিষ্যতে যদি আসল জীবাণু দেহে প্রবেশ করে তাহলে অ্যান্টিবডির কৌশলে দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র দেহকে ভোগ করতে না দিয়ে জীবাণু ধ্বংসে সক্রিয় হবে। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো টিকা প্রদান।