উদ্দীপকের আলোচনা থেকে বুঝা যায়, নাফিছের যে বয়স শারীরবিজ্ঞানের ভাষায় এসময়কে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। নিচে ছেলে- মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালিন পরিবর্তনসমূহ উল্লেখ করা হলো :
ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন :
১. দ্রুত ওজন ও উচ্চতা বাড়ে, বুক ও কাঁধ চওড়া হয়।
২. সব স্থায়ী দাঁত উঠতে শুরু করে।
৩. স্বরথলির বৃদ্ধি ও ভোকাল কর্ডের পরিবর্তনের কারণে কণ্ঠস্বর ভারী ও গভীর হয়।
৪. জননাঙ্গের সেমিনাল ভেসিকল, প্রোস্টেট গ্রন্থি ও কওপার গ্রন্থির বৃদ্ধি ঘটে এবং এদের নিঃসরণ শুরু হয়।
৫. সেমিনাল ফ্লুইডে ফ্রুক্টোজের আবির্ভাব ঘটে।
৬. লিঙ্গ ও শুক্রাশয় আকারে বৃদ্ধি পায় এবং বীর্যপাত ঘটে, স্বপ্নদোষ হয়।
৭. দাঁড়ি, গোঁফ, বুকের লোম, বগলের লোম ও পিউবিক লোম গজানো শুরু হয়।
৮. তৈল গ্রন্থির অধিক নিঃসরণের কারণে মুখমণ্ডল চকচকে দেখায় এবং ভ্রূণ বিকশিত হতে দেখা যায়।
মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন :
১. স্তন বিকশিত হতে শুরু করে যা মেয়েদের প্রথম পরিবর্তন; একে থেলারচি বলে।
২. দ্রুত উচ্চতা ও ওজন বাড়ে।
৩. চামড়া তেলতেলে হয়, সব স্থায়ী দাঁত উঠতে শুরু করে।
৪. অক্সিলারি (বগল) ও পিউবিক লোম গজাতে শুরু করে, একে পিউবারচি বলে।
৫. রজঃচক্র (মাসিক) শুরু হয়; প্রথম রজঃচক্রকে মেনারচি বলে।
৬. অ্যাডরেনাল গ্রন্থির এন্ড্রোজেন হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
৭. নিতম্ব, উরু ও স্তনে চর্বি সঞ্চিত হতে থাকে এবং এর ফলে দেহে নারীসুলভ কোমনীয়তা আসে।
৮. জরায়ু, ডিম্বাশয়, যোনী ইত্যাদি অঙ্গের বৃদ্ধি ঘটে।