উদ্দীপকের চিত্র-১ এর কোষটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ এবং চিত্র-২ এর কোষটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ। নিচে কোষ দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
সাদৃশ্যঃ
১। উভয় কোষে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
২। উভয় কোষে অ্যানোডে জারণ ও ক্যাথোডে বিজারণ ঘটে।
বৈসাদৃশ্যঃ
§ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ :-
১. এ কোষের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন ইলেকট্রনকে প্রবাহিত করে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করা হয়।
২. এখানে কোষের মধ্যে সংঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়া রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।
৩. রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন ইলেকট্রনের - প্রবাহের কারণে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয়।
৪. অ্যানোড তড়িৎদ্বারটি ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট এবং ক্যাথোড তড়িৎদ্বারটি ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট হয়।
৫. দ্রবণের মধ্যে যে দিকে অ্যানায়নের প্রবাহ ঘটে তড়িৎ প্রবাহের দিক সে দিকেই ঘটে।
৬. লবণ সেতু ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।
§ তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ :-
১. এ কোষের মাধ্যমে বাহ্যিক উৎস থেকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করে নতুন পদার্থের সৃষ্টি করা হয়।
২. কোষের যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তড়িৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিবর্তিত করা হয়।
৩. তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের গলিত অবস্থায় অথবা দ্রবণে দবীভূত অবস্থায় সৃষ্ট আয়ন দ্বারা তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয়।
৪. অ্যানোড তড়িৎদ্বারটি ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট এবং ক্যাথোড তড়িৎদ্বারটি ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট হয়।
৫. ইলেক্ট্রনের প্রবাহ যেদিকে ঘটে তড়িৎ প্রবাহ ঠিক তার বিপরীত দিকে ঘটে।
৬. লবণসেতু ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।