উদ্দীপকের ট্যানারি থেকে সবচেয়ে বেশি নদী দূষণ ঘটবে।
কারণ ট্যানারি থেকে বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন দূষক উৎপন্ন হয়, যা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপে সবচেয়ে বেশি নদী দূষণ হয়।
ট্যানারি শিল্প থেকে উদ্ভুত তরল বর্জ্যের বিশোধন অত্যাবশ্যক। অবিশোধিত ট্যানারি বর্জ্য নদীর পানিতে নিম্নোক্ত প্রভাবসমূহ সৃষ্টি করে।
i. ট্যানারি সৃষ্ট তরল বর্জ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় জৈব বস্তু যেমন, প্রোটিন, ফ্যাটসহ বিভিন্ন জৈব যৌগের উপস্থিতি রয়েছে। খাল, নদী, জলাশয়ে এসব জৈব বস্তু জীব ভাঙনের সম্মুখীন হয়। অনুজীব কর্তৃক এসব জৈব বস্তু ভাঙনে পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ফলে, পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন হ্রাস পেলে জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব লোপ পায়।
ii. ট্যানারি বর্জ্যের উপাদানের মধ্যে পচনযোগ্য দ্রবীভূত প্রোটিন, ফ্যাট প্রভৃতি থাকে। এগুলোর ভাঙ্গনে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থের সৃষ্টি করে।
iii. বর্জ্য পদার্থে NaCl এর পরিমাণ এত বেশি থাকে যে, যা গ্রহণকারী জলাশয়ের পানিকে ব্যবহারের অনুপযোগী করে তোলে।
vi. ট্যানারি বর্জ্যে প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া থাকে। যা জলীয় পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
V. বর্জ্যে দ্রবীভূত ক্রোমিয়াম জলজ প্রাণীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ক্রোমিয়াম জীবভাঙনযোগ্য নয় বলে এটি জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের মাধ্যমে খাদ্যচক্রে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পরিবেশে মানবদেহে সংক্রমিত হয়।
vi. ট্যানারি শিল্পের তরল বর্জ্যে বিদ্যমান ভাসমান কঠিন পদার্থ খালে, নদীতে বা জলাশয়ের গভীরতা হ্রাস করে। ভাসমান কঠিন পদার্থ জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
অপরদিকে, আর্সেনিক আকরিক যুক্ত মাটি পানিতে মিশে নিম্নলি।খতভাবে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করতে পারে।
এভাবে আর্সেনিক নদী দূষণ করে। যা খাওয়ার অনুপযুক্ত কিন্তু অন্যান্য যেকোন গৃহস্থলীর কাজ এটা দিয়ে করা সম্ভব।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, ট্যানারী অধিক পরিমাণ নদী দূষণ করে।