'গ' হতে পাই, উদ্দীপকের A, B ও C যৌগ ৩টি যথাক্রমে বেনজিন, নাইট্রোবেনজিন এবং অ্যানিলিন। ইলেকট্রনাকর্ষী প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ায় এদের সক্রিয়তার ক্রম নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
বেনজিন এবং নাইট্রোবেনজিনের সক্রিয়তা: নাইট্রোবেনজিন এ - NO2 মূলক যুক্ত থাকে। - NO2 মূলক ইলেকট্রনাকর্ষী গ্রুপ। - NO2 মূলক বেনজিন চক্রে উপস্থিত থাকলে এটি ইলেকট্রন নিজের দিকে টেনে নিয়ে বেনজিন চক্রের ইলেকট্রন ঘনত্ব হ্রাস করে। ফলে বেনজিন চক্রে ইলেকট্রনাকর্ষী বিকারকের আক্রমণ কষ্টকর হয় বলে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ায় সক্রিয়তা হ্রাস পায়।
চিত্র: নাইট্রো বেনজিনের রেজোন্যান্স কাঠামো
অপরদিকে বেনজিনকে নাইট্রেশন করলে খুব সহজেই বেনজিন হতে হাইড্রোজেন অপসারিত হয়ে নাইট্রোমূলক (-NO2) যুক্ত হয়ে নাইট্রোবেনজিন উৎপন্ন করে।
উপরোক্ত বর্ণনা হতে বলতে পারি নাইট্রোবেনজিন অপেক্ষা বেনজিন বেশি সক্রিয়। অর্থাৎ বেনজিন > নাইট্রোবেনজিন।
বেনজিন এবং অ্যানিলিনের সক্রিয়তা:
অর্থো-প্যারা নির্দেশক গ্রুপগুলো বেনজিন বলয়ের ইলেকট্রন ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং বলয়কে ইলেকট্রোফিলিক প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ায় বেনজিন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় করে। অ্যানিলিনে -NH2 মূলক উপস্থিত থাকায় অ্যামিনো মূলকের নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় রেজোন্যান্সের মাধ্যমে বেনজিন বলয়ে প্রবেশ করে। ফলে বেনজিনের ইলেকট্রন ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে অর্থো-প্যারা অবস্থানের ইলেকট্রন ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি বৃদ্ধি পায়। ফলে বেনজিন বলয় সক্রিয় হয়। অর্থাৎ, নবাগত প্রতিস্থাপক অর্থো-প্যারা অবস্থানে যুক্ত হয়।
অ্যানিলিনকে ক্লোরিনেশন করলে ২টি যৌগ অর্থো ক্লোরো অ্যানিলিন এবং প্যারাক্লোরো অ্যানিলিন উৎপন্ন হয়।
বেনজিন এর ক্লোরিনেশন এ বেনজিন বলয়ে অথ্যো-প্যারা অবস্থানে ইলেকট্রন ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় না অর্থাৎ বেনজিনকে কোনোভাবেই সক্রিয় করে না। বেনজিন হতে H প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শুধুমাত্র ১টি যৌগ ক্লোরোবেনজিন উৎপন্ন হয়।
যার কারণে বেনজিন অপেক্ষা অ্যানিলিন অধিক সক্রিয়।
অর্থাৎ, অ্যানিলিন > বেনজিন।
সুতরাং, বেনজিন, নাইট্রোবেনজিন এবং অ্যানিলিনের সক্রিয়তার ক্রম হলো অ্যানিলিন > বেনজিন > নাইট্রোবেনজিন।