উদ্দীপকের 1নং লেখচিত্রে ধারাবাহিকভাবে Na, Al, Si, P, S, Cl প্রভৃতির গলনাংকের হ্রাসবৃদ্ধির ক্রম দেখানো হয়েছে। Na ও Al পরমাণুতে ধাতব বন্ধন বিদ্যমান। Na ও Al এর কেলাসে যথাক্রমে একটি ও তিনটি মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। Na অপেক্ষা Al এর কেলাসে এদের নিজস্ব আয়নের উপর মুক্ত ইলেকট্রনের আকর্ষণ বেশি তথা ধাতব বন্ধনের দৃঢ়তা বেশি। তাই Na অপেক্ষা Al এর গলনাঙ্ক বেশি হয়। Si এর কেলাসে অসংখ্য Si পরমাণু Si – Si বন্ধনের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক জাল গঠন করে। এ কেলাসকে গলনের জন্য অসংখ্য Si-Si বন্ধন ছিন্ন করতে হয় বলে Si এর গলনাঙ্ক এতো বেশি। P, S ও Cl যথাক্রমে P4, S৪ ও Cl₂ অণু হিসেবে থাকে। এদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব অণুর মধ্যে ভ্যানডার ওয়ালস আকর্ষণ বল বিদ্যমান। ভ্যানডার ওয়ালস আকর্ষণ বল অণুর আণবিক ভরের সাথে সম্পর্কিত। আণবিক ভর যত বেশি হবে ভ্যানডার ওয়ালস আকর্ষণ বল ততো বেশি হবে। এতে অণুর গলনাংকও ততো বেশি হবে। P4, S৪ ও Cl2 অণুর আণবিক ভর তথা ভ্যানভার ওয়ালস আকর্ষণ বলের ক্রম হলো: S8 > P4 > Cl2। কাজেই এদের গলনাংকের ক্রম হবে S8 > P4 > Cl2 সুতরাং সামগ্রিকভাবে মৌলগুলোর গলনাংকের ক্রম হবে-
Si> Al > S >Na > P > Cl
উদ্দীপকের II নং লেখচিত্রে গ্রুপ I এর চারটি মৌল Li, Na, K. ও Rb এর গলনাঙ্কের ক্রম দেখানো হয়েছে। এরা সকলেই ধাতু। পর্যায় সারণীর একই গ্রুপে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পায় এবং যোজ্যতা স্তরে ইলেকট্রন মেঘের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে পরমাণুর বন্ধন আকর্ষণ কমে যায় বলে গলনাঙ্কের মান কমে যায়। কেবল Li এর আকার খুবই ছোট হওয়ার এর গলনাংক এই গ্রুপের অন্যান্য মৌল অপেক্ষা যথেষ্ট বেশি হয়। সুতরাং মৌলগুলোর গলনাঙ্কের ক্রম হবে-
Li>Na>K> Rb
সুতরাং দেখা গেল, লেখচিত্র-Ⅰ এ, ধাতু, অধাতু, ও উপধাতু সব ধরনের মৌল উপস্থিত থাকায় এদের গলনাঙ্কের ক্রম পরিবর্তনে ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু লেখচিত্র II-এ, কেবল ধাতুসমূহ থাকায় এক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে গলনাঙ্ক হ্রাস পেতে থাকে।