A মৌলের সাথে পৃথকভাবে X, Y ও Z দ্বারা গঠিত যৌগসমূহের গলনাংকের সঠিক ক্রম ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের A, X, Y, Z হলো যাথাক্রমে Ca, F, Cl, Br। A মৌলের সাথে পৃথকভাবে X, Y ও Z দ্বারা গঠিত যৌগসমূহ হলো-CaF, CaCl, CaBr। এদের গলনাংকের সঠিক ক্রম হলো: ও এদের গলনাংক : CaF2 = 1392, CaCl2=782, CaBr2=730 এখানে ক্যাটায়ন Ca2+ একই কিন্তু অ্যানায়নের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে পোলারায়নের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।অ্যানায়নের ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পেলে সর্ববহিস্থ স্তরের ইলেকট্রনের সাথে নিউক্লিয়াসের গড় দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। ফলে ইলেকট্রনের ওপর অ্যানায়নের নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায়। তখন ক্যাটায়ন সহজেই অ্যানায়নকে পোলারায়িত করতে পারে। একই গ্রুপে ওপর থেকে নিচের দিকে অ্যানায়নের পোলারায়িত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। যেমন, F (133 pm) < Cl- (181 pm) < Br (196 pm) < I-(220 pm) তাই যাথাক্রমে গলনাংক ও বৃদ্ধি পায়।
HSC Chemistry 1st Paper Chapter 3: মৌলের পর্যাবৃত্তিক ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Chemistry 1st Paper · Chapter 3: মৌলের পর্যাবৃত্তিক ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধন · সৃজনশীল
A মৌলের সাথে পৃথকভাবে X, Y ও Z দ্বারা গঠিত যৌগসমূহের গলনাংকের সঠিক …
উদ্দীপক

Barisal · 2019
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
চিত্রে-৩.২১ : কার্বন পরমাণুর sp3 সংকরণের মধ্যমে চতুস্তলকীয় C4 অণুর সৃষ্টি।
(২) কার্বনের sp2 সংকরণ ও ইথিন বা ইথিলিন অণুর গঠনH
sp2 Hybridisation of Carbon atoms and Structure of Ethene
কার্বনের sp2 সংকরণ : উদ্দীপিত কার্বন পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস হলো । তখন কার্বন পরমাণুর 2s1 অরবিটালের সঙ্গে তিনটি 2p অরবিটালের
() যে কোনো দুটির মিশ্রণের ফলে সমশক্তির তিনটি sp2 সংকর অরবিটাল এর সৃষ্টি হতে পারে। একে কার্বনের sp2 সংকরণ বলে। এ অবস্থায় C পরমাণুর একটি 2p অরবিটাল অপরিবর্তিত অর্থাৎ বিশুদ্ধ অবস্থায় থেকে যায়। তখন তিনটি sp2 সংকর অরবিটাল একই সমতলে থাকে এবং পরস্পরের সঙ্গে 120° কোণ উৎপন্ন করে। প্রত্যেকটি sp2 সংকর অরবিটালে 33.3% s-চরিত্র ও 66.7% p-চরিত্র থাকে। যেমন-
চিত্রে-৩.২৪ : কার্বন পরমাণুর sp2 সংকর দ্বারা তিনটি সংকর অরবিটাল গঠন।
sp2 সংকরিত দু'টি C-পরমাণুর মধ্যে প্রথমে প্রতিটির একটি সংকর অরবিটাল অপরটির একটি সংকর অরবিটালের বরাবর অধিক্রমণ দ্বারা C-C সিগমা বন্ধন গঠিত হয়। পরে প্রতিটি C-পরমাণুর অবশিষ্ট দুটি করে মোট চারটি সংব অরবিটালের প্রতিটির সাথে একটি করে H-পরমাণুর 1s1 অরবিটালের অধিক্রমণ দ্বারা চারটি C-H সিগমা বন্ধন সৃষ্টি হয়। এটিই ইথিলিন অণুর প্রাথমিক কাঠামো। কিন্তু তখন প্রত্যেক কার্বন পরমাণুতে একটি করে বিশুদ্ধ অরবিট দুটি C পরমাণুর তলের ওপর ও নিচে লম্বভাবে পরস্পর সমান্তরাল অবস্থায় থাকে। এর ফলে অরবিটাল দুটির মধ্যে
চিত্রে-৩.২৫ ইথিন বা ইথিনিন অণুর মধ্যে দুটি অরবিটালের পাশাপাশি অধিক্রমণ দ্বারা পাই () বন্ধনের সৃষ্টি। পাশাপাশি অধিক্রমণ সম্ভব হয়। এভাবে ডাম্বেল আকৃতিবিশিষ্ট দুটি
অরবিটালের পাশাপাশি আংশিকভাবে অধিক্রমণ দ্বারা ঐ দুটি C পরমাণুর মধ্যে একটি দুর্বল সমযোজী বন্ধনের সৃষ্টি হয়, একে কার্বন-কার্বন বন্ধন বলে। দুটি C পরমাণুর মধ্যে দুটি সমযোজী বন্ধন থাকে; এদের একটি হলো দুটি C পরমাণুর অক্ষ বরাবর, sp2–sp2 সিগমা (০) বন্ধন ও একটি পাই
বন্ধন মিলে একটি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন সৃষ্টি হয়।
জ্যামিতিক আকৃতির দিক থেকে তিনটি sp2 অরবিটাল সমতলীয় সুষম ত্রিকোণাকার হয়ে থাকে এবং ∠H-C-H বা, ∠H-C-C সমান 120° এবং C=C দ্বিবন্ধন দূরত্ব 0.134 nm হয়ে থাকে।
(২) পানির অণুর গঠনে sp3 সংকরণ প্রক্রিয়া (Formation of H2O with sp3) পানির কেন্দ্রীয় পরমাণু অক্সিজেনের ইলেকট্রন বিন্যাস অক্সিজেন পরমাণুর 2s ও 2p অরবিটালসমূহের sp3 সংকরণ হয়। উৎপন্ন চারটি সংকর অরবিটাল একটি চতুস্তলকের শীর্ষবিন্দুর দিকে প্রসারিত থাকে। এ চতুস্তলকের কেন্দ্রে অক্সিজেন পরমাণুর অবস্থান। চারটি সংকর অরবিটালের যেমন এর প্রথম দুটিতে আছে নিঃসঙ্গ-ইলেকট্রনযুগল। এরা বন্ধন সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয় না। অপর দুটি অরবিটালে যেমন -এ একটি করে ইলেকট্রন।
এ অরবিটাল দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর 1s1 অরবিটালের সাথে অধিক্রমণ করে দুটি O-H বন্ধন সৃষ্টি করে;
এভাবেই পানির অণু সৃষ্টি হয়। অক্সিজেন পরমাণুর দুটি নিঃসঙ্গ-ইলেকট্রনযুগল পানি অণুর বন্ধন ইলেকট্রন
যুগলকে অধিকতর বিকর্ষণ করে বলে বন্ধন কোণ ∠HOH এর মান আদর্শ চতুস্তলকের কোণের মান 109.5° থেকে কমে 104.5° (বা, 104°28) হয়। যেহেতু পরীক্ষায় শুধুমাত্র নিউক্লিয়াসসমূহের অবস্থান ধরা পড়ে, সেহেতু
পরমাণুর নিউক্লিয়াসসমূহের অবস্থান অনুসারে পানির অণুর আকার ইংরেজি V-অক্ষরের আকৃতির ন্যায় দেখায়।

