উদ্দীপকের পদার্থগুলো মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর যেসব ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
ভারী ধাতুর আয়ন যেমন Hg+ প্রাণিদেহে প্রবেশ করলে প্রাণিদেহের এনজাইমকে এরা ভেঙে দেয়। এনজাইমের কার্যকারিতা বিনষ্ট হওয়ার সাথে সাথে শরীরে বিষক্রিয়া ঘটে। ভারী ধাতুসমূহের বিষক্রিয়ায় বিষাক্ত পদার্থ আমাদের দেহের কোষে তথা বিভিন্ন অঙ্গে পুঞ্জীভূত হয়। যার ফলে পুষ্টিগত ঘাটতি, হরমোনজনিত অসাম্য ও স্নায়ুবিক অনিয়ম দেখা দেয়। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় প্রতিরোধ ক্ষমতায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিবেশের জন্যও মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনে। উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটায়, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণির ক্ষতিসাধন করে। অন্যদিকে H2O2 একটি বিষাক্ত, তীব্র জারণধর্মী, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ ঝুঁকির রাসায়নিক উপাদান। ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন উপাদানের মধ্যে অন্যতম হলো H2O2। ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত ফেনলের বর্জ্য পদার্থ বায়ুতে, পানিতে ও মাটিতে মিশে পরিবেশের ক্ষতি করে থাকে। ফেনলের উপস্থিতিতে মাটি ও পানির pH মান হ্রাস পায় যার ফলে জলজ প্রাণীকুল ও উদ্ভিদসমূহের সাধারণ বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। আবার মানবস্বাস্থ্যের ফেনলের সংস্পর্শে ক্ষতি সাধিত হয়। যেমন- ফেনলের সংস্পর্শে চোখ ও ত্বক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাবে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায়, প্রদত্ত পদার্থগুলো মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমিকস্বরূপ।