উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের ব্যক্তিত্বহীন ও যৌতুকলোভী মানসিকতার উল্লেখ থাকলেও কল্যাণীর দৃঢ় ব্যক্তিত্ব, শম্ভুনাথ সেনের আত্মসম্মান, অনুপমের ভুলের স্বীকারোক্তি অনুপস্থিত থাকায় তা গল্পের আংশিক প্রতিফলন মাত্র ।
'অপরিচিতা' গল্পে আঠারো শতকের যৌতুকলোভী মানসিকতার এক সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে উচ্চশিক্ষিত যুবক অনুপম শ্রমবিমুখ ও ব্যক্তিত্বহীন। তার বিয়ের সময় মামা চরিত্রের ঘৃণ্য যৌতুকলোভী মানসিকতা লক্ষ করা যায়। এমনকি অনুপম ও কল্যাণীর বিয়ের আসরে সেকরা নিয়ে গহনা পরীক্ষার মাধ্যমে অনাকাক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ফলে কন্যার পিতা শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দেন। পরবর্তীতে কল্যাণী দেশব্রতে নিজেকে নিয়োজিত করে এবং অনুপম নিজের ভুল বুঝতে পারে।
উদ্দীপকে অলস, তরলমতি, শ্রমকাতর, কোমলমতি বাঙালি বিয়েকে অর্থ আদান-প্রদানের একটি ব্যাবসা হিসেবে মনে করে। যেখানে বর হলো বিক্রেতা এবং শ্বশুর হলো ক্রেতা। শ্বশুর বর কিনে নেওয়ার মাধ্যমে তার কন্যা ও অর্থ বরকে প্রদান করে। শ্রমবিমুখ বাঙালি এই অর্থ লাভের প্রক্রিয়াকে সহজ মনে করে, পরিশ্রম করে অর্থ লাভকে নয়, যা একই সঙ্গে তাদের ব্যক্তিত্বহীন ও যৌতুকলোভী মানসিকতাকে ইঙ্গিত করে। 'অপরিচিতা' গল্প ও উদ্দীপকে যৌতুকলোভী ও ব্যক্তিত্বহীন মানসিকতার চিত্র ফুটে উঠলেও 'অপরিচিতা' গল্পের বিষয়বস্তু আরও বিস্তৃত। সেখানে যৌতুককে কেন্দ্র করে বিয়ের আসরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হয়। ফলে আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন কল্যাণীর বাবা এই বিয়ে ভেঙে দেয়। বিয়ে ভাঙলেও কল্যাণী দমে না গিয়ে দেশব্রতে নিজেকে নিয়োজিত করে। পরবর্তী সময়ে অনুপম নিজের ভুল বুঝতে পারে। এসব দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় বলা যায়, উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' পড়ার প্রতিফলন মাত্র।