"উদ্দীপকের কথক এবং 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম স্বীয় ব্যক্তিত্ববোধের জায়গা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবাদ করলে দুজনের জীবনই সুন্দর হতে পারত।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ সৎ সাহস ও উন্নত মানসিকতার হয়ে থাকে। সে কখনো কোনো অন্যায় আচরণ ও অসংগতিকে মাথা পেতে সহ্য করে না। বরং সাহস দিয়ে এগুলোর প্রতিবাদ করে। ফলে সে কখনোই আত্মদ্বন্দ্বে ভোগে না, হতাশাগ্রস্ত হয় না। ফলে তার জীবন হয় সুন্দর ও সম্ভাবনাময়।
উদ্দীপকের কথক, অযোধ্যার লোকদের অন্যায় দাবি সীতাকে বিসর্জনের বিষয়টি সমর্থন করেছেন। এটি অন্যায় জেনেও এর পক্ষে তিনি গান করেছেন। প্রবন্ধ লিখেছেন। ফলে এর পরিণতি স্বরূপ তাকে বুকের রক্ত দিয়ে সীতা বিসর্জনের কাহিনি লিখতে হয়েছে। অথচ তিনি যদি নিজের ব্যক্তিত্ববোধের জায়গা থেকে প্রথমেই সীতা বিসর্জনের প্রতিবাদ করতেন তাহলে শেষে তার এমন পরিণতি হতো না। 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মাঝেও একই পরিণতি লক্ষ করা যায়। অনুপমও একজন ব্যক্তিত্বহীন পুরুষের মতো তার লোভী মামার সকল অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। নিজের বিয়েতে মামা কনেপক্ষের সোনা পরীক্ষা করে দেখার জন্য সেকরা আনলেও অনুপম তার প্রতিবাদ করেনি। ফলে বিয়েবাড়ি থেকে তাকে অপমানিত হয়ে বিয়ে না করেই ফিরে আসতে হয়।
'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম যদি ব্যক্তিত্ববোধের জায়গা থেকে মামার অন্যায় আচরণে প্রতিবাদ করত তাহলে বিয়েবাড়ি থেকে তাকে এভাবে অপমানিত হতে হতো না, কল্যাণীকে বিয়ে করে সে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাতে পারত। আবার উদ্দীপকের কথকও যদি ব্যক্তিত্বের জায়গা থেকে প্রতিবাদ করতেন তাহলে তারও এমন করুণ পরিণতি হতো না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।