উদ্দীপকের হৈমন্তী যৌতুকের বলি হলেও 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী তার বাবা শম্ভুনাথ সেনের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে যৌতুকের বলি না হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।
'অপরিচিতা' গল্পে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী দিক তুলে ধরা হয়েছে। যৌতুক প্রথা সমাজে একটি ব্যাধির মতো। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় যৌতুক প্রথা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। 'অপরিচিতা' গল্পে আমরা সেই চিত্র দেখতে পাই। কল্যাণী শিক্ষিত-মার্জিত হওয়া সত্ত্বেও অনেক উপঢৌকনের মাধ্যমে বিয়ে ঠিক হয়।বিয়ের সময় পাত্রের মামা সেই উপঢৌকন আসল না নকল তা যাচাই করে দেখতে চান। একটি মেয়ের জন্য এবং তার পরিবারের জন্য এই অমর্যাদা ও অসম্মান অনেক বেদনার । এজন্য কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ বাবু মেয়ের লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার ভয় উপেক্ষা করে অনুপমের সাথে বিবাহ ভেঙে দেন। ফলে কল্যাণী ভারতবর্ষে জেঁকে বসা পণপ্রথার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন করার ও নারী সমাজকে জাগ্রত করার মহান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের হৈমন্তীর বাবা মেয়েকে পণপ্রথার নির্মম বলি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। হৈমন্তীর শ্বশুর বাড়ির লোকদের অর্থলোভী মানসিকতার কারণে হৈমন্তীকে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যেতে হয়। হৈমন্তীর বাবার অর্থনৈতিক দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে পারলে হৈমন্তীর ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। হৈমন্তীর ওপর চলা নির্যাতনের কথা তার বাবা অনুমান করতে পারলেও নিজের দুর্বলতার কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেননি। তাই হৈমন্তীর জীবনে করুণ পরিণতি নেমে আসে।
উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পের আলোকে বলা যায়, কল্যাণীর বাবার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে হৈমন্তীর জীবনে করুণ পরিণতি হতো না। কল্যাণীর বাবা ছিলেন ব্যক্তিত্ববান মানুষ। তিনি অসম্মান ও অমর্যাদাকে মেনে নিতে পারেননি । সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস, পারস্পরিক মর্যাদাবোধ অনেক মূল্যবান । সেই মর্যাদা না থাকলে আত্মীয়তার কোনো অর্থ নেই। কিন্তু উদ্দীপকের হৈমন্তীর বাবা ছিলেন নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। হৈমন্তীর দুঃখ-যন্ত্রণা বুঝতে পারলেও তিনি যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বরং তার নিজের দুর্বলতাই মেয়ের দুঃখ-কষ্টের কারণ বলে মনে করেন। তাই হৈমন্তীর জীবনে নেমে আসে করুণ পরিণতি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গৌরীশংকর বাবুর ভূমিকা যদি শম্ভুনাথ বাবুর মতো যৌতুক প্রথার বিরোধী হতো, তাহলে হৈমন্তীকে অকালে চলে যেতে হতো না ।