উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের উচ্চশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও বাঙালি যুবকের ব্যাক্তিত্বহীনতা ও পরিবারের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে নাপারার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পের কথক অনুপম বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের সেই | বাঙালি যুবক, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেও ব্যক্তিত্বহীন, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। তরুণ বয়সেও সে যেন মায়ের কোলসংলগ্ন শিশু। বিয়েতে তার উপস্থিতিতে যখন যৌতুক প্রদান-সংক্রান্ত অবমাননাকর কারণে কন্যাপক্ষ বিয়ে ভেঙে দেয়, তখন পুরো ঘটনাটিতে তার উপস্থিতি ছিল জড়বস্তুর মতো। মামা এবং মায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পুরো ঘটনায় সে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেনি। উদ্দীপকেও আমরা উচ্চশিক্ষিত, আত্মনির্ভরশীল লিটন শীলের ব্যক্তিহীনতার পরিচয় পাই । লিটন শীল ও চন্দনার মধ্যে দীর্ঘদিনের জানাশোনা ও ভালো বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও লিটনের বাবা যখন নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের চন্দনাকে পুত্রবধূ বানাতে অস্বীকৃতি জানায়, লিটন তখন বাধ্য ছেলের মতো বাবার কথা মেনে নেয়। কেননা, বাল্যকাল থেকেই সে কখনো বাবার কথার অবাধ্য হয়নি। তাই সুন্দরী ও চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও চন্দনার লিটনের বধূ হওয়া হয় না। 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মাঝে উদ্দীপকের লিটন শীলের মতোই ব্যক্তিত্বহীনতা দেখতে পাই। মামার অন্যায় আচরণে সে বাধা দিতে উক্ত ঘটনায় নিজের মতামত দেওয়া, পছন্দকে মূল্যায়ন করা কিংবা পারেনি। হবু শ্বশুরকে সে নীরব দর্শকের মতো অপমানিত হতে দেখেছে। ব্যক্তিতের পরিচয় দিয়ে ন্যায়ের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়া কোনোটাই তার পক্ষে সম্ভব হয়নি । তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের উচ্চশিক্ষিত বাঙালি যুবকের ব্যক্তিত্বহীনতা ও পরিবারের গণ্ডি থেকে বাইরে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।