“উদ্দীপকে বর্ণিত মাতৃস্নেহের আধিক্যে অনুপম চরিত্রের বিকাশ ব্যাহত হয়েছে ঠিকই; কিন্তু গল্পের পরিণতিতে বৃত্তভীঙা এক ব্যক্তি হিসেবে তাকে পাওয়া যায়।”— 'অপরিচিতা' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ। 'অপরিচিতা' গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র অনুপম। গল্পের শুরুতে আমরা তাকে গুণহীন, ব্যক্তিত্বহীন ভূমিকায় দেখি, যে কিনা শিক্ষিত হয়েও পরিবারতন্ত্রের গণ্ডিতে আবদ্ধ। কিন্তু ক্রমে তার মধ্যে চেতনার বিকাশ ঘটে । গল্পের শেষ দিকে আমরা তাকে ক্রমে ইতিবাচক হয়ে উঠতে দেখি । অতিরিক্ত মাতৃস্নেহ কীভাবে একজন মানুষকে অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল করে তোলে, উদ্দীপকের বর্ণনায় সেই দিকটি উঠে এসেছে। মাতৃস্নেহের তুলনা নেই কিন্তু অতিস্নেহ অনেক সময় অমঙ্গলের কারণ হতে পারে। মাতৃমমতার প্রাবল্যে মানুষ নিজের ব্যক্তিত্ব গঠন করতে পারে না এবং নিজেকে মর্যাদাহীন করে তোলে । তখন তারা মনুষ্যত্বের বিকাশের পথ থেকে দূরে সরে যায়। আলোচ্য গল্পের অনুপম চরিত্রের মধ্যেও আমরা সেই দিকটি লক্ষ করি।
'অপরিচিতা' গল্প এবং আলোচ্য উদ্দীপকের আলোচনায় আমরা দেখতে পাই, অতিরিক্ত মাতৃস্নেহের বিরূপতা। উভয়স্থানেই মাতৃস্নেহের আধিক্যের কারণে সৃষ্ট সংকটের কথা উঠে এসেছে। গল্পে আমরা দেখতে পাই, অনুপম মাতৃস্নেহের কারণে কীভাবে তার মনুষ্যত্ব হারিয়েছিল। উচ্চশিক্ষিত হয়েও ন্যায়-অন্যায় বোধ তার মধ্যে জেগে উঠতে দেখা যায় না। কিন্তু গল্পের শেষে তার মধ্যে এক ভিন্ন ব্যক্তিসত্তার জাগরণ লক্ষ করা যায়।