'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর চরিত্রে বেশ কিছু উন্নত মানবিক প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে; যেগুলোর সমগ্রতা উদ্দীপকের শিক্ষিকার মাঝে দেখা যায় না।
'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী দৃঢ়চেতা মনোভাবাপন্ন ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন নারী। বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে গেলেও সে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েনি। নিজেকে সে দেশের কল্যাণে, নারীদের উন্নয়নে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত করে। তৎকালীন সমাজবাস্তবতার বিরূপ পরিবেশে কল্যাণী সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা ডাক্তার অপূর্বের স্কুলবাসে হঠাৎ দেখা এক শিক্ষিকার সাথে পরিচিত হই। তাকে ঘিরে অপূর্বের মনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। শিক্ষিকার প্রতি অপূর্বের আকর্ষণ সৃষ্টির পাশাপাশি উদ্দীপকের সেই শিক্ষিকার স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়। 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীকে আমরা উদার, পরোপকারী, স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী নারী হিসেবে দেখতে পাই। সে তার বাবা ও নিজের সম্মান বজায় রাখতে অনুপমকে বিয়ে করেনি। অনুপম দ্বিতীয়বার পাণিপ্রার্থী হলে তার বাবা মেনে নেন কিন্তু নারীশিক্ষা বিকাশে দেশের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কল্যাণী তা প্রত্যাখ্যান করে।
উদ্দীপকে ডাক্তার অপূর্বের সাথে স্কুল শিক্ষিকার বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আলোচনা নেই। সেই শিক্ষিকার পরিচয়ও উদ্দীপকে আলোচনা করা হয়নি। অপরদিকে গল্পে কল্যাণী চরিত্রকে দেশসেবায় নিয়োজিত হওয়া এবং তাতেই সংকল্পবদ্ধ থাকার মাধ্যমে পূর্ণতা দেওয়া হয়েছে। তাই আমি মনে করি, উদ্দীপকের শিক্ষিকার মধ্যে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর চারিত্রিক প্রবণতাসমূহ আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে।