'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীর চরিত্রে উন্নত মানবিকতার প্রতিফলন রয়েছে, যা উদ্দীপকের শ্রী গীতা রাণী সরকারের বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের মাঝেও নিহিত ।
'অপরিচিতা' গল্পের কাহিনি দৃঢ়চেতা মনোভাবাপন্ন ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কল্যাণী নামক এক নারীকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে। সকল আয়োজন সম্পন্ন হলেও বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে যায় তার। এতে সে ভেঙে না পড়ে নিজেকে দেশ ও নারীদের উন্নয়নে নিয়োজিত করে। কল্যাণীর এ পদক্ষেপকে তার শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ বলা যায় ।
উদ্দীপকের গীতা রাণী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন । ২৭ বছর বয়স হলেও নানা কারণে তাঁর বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যায়। পরবর্তীকালে তিনি বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে দেশ ও সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। অধিকারবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করেন তিনি। গল্পের কল্যাণীর মাঝে যে দৃঢ়চেতা ও বলিষ্ঠ মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়, তা উদ্দীপকের গীতা রাণীর মাঝেও বিদ্যমান।
'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী ও উদ্দীপকের গীতা রাণী উভয়ের মাঝেই আমরা আত্মপ্রত্যয়ী নারী চরিত্রের দেখা পাই। গল্পের কল্যাণীর বয়স কম হলেও বিয়ে ভাঙার কারণে ভেঙে না পড়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছে। গল্পে তাকে আমরা প্রতিবাদী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও দৃঢ়চেতা নারীর প্রতীকে উপস্থাপিত হতে দেখি। উদ্দীপকের নারী চরিত্রটিও আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যয়ে ভরপুর। অধিকারবঞ্চিত নারীদের মনোযোগ সহকারে শিক্ষা দেন গীতা রাণী। চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণেই প্রতিবেশিকে বিনয়ের সাথে বিয়ের সম্বন্ধ আনতে বারণ করেন তিনি। সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধে জাগ্রত এমন মানসিকতার পরিচয় আমরা গল্পের কল্যাণীর মাঝেও ফুটে উঠতে দেখি। সার্বিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি আমি সমর্থন করি।