উদ্দীপকে মানসপ্রিয়াকে আপন করে না পাওয়ার বেদনা প্রতিফলিত হলেও 'অপরিচিতা' গল্পের মূলবক্তব্য প্রকাশিত হয়নি বরং আংশিক ভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
গল্পে যৌতুকপ্রথার চিরবহমান চিত্রের প্রতিফলন থাকলেও কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের কারণে তা নতুন দিকে প্রবাহিত হয়। আর এতে বিয়ে সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ কল্যাণীর জীবনচেতনা পালটে যায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার ব্যক্তিত্বের ছটা ব্যক্তিত্বহীন অনুপমকেও প্রভাবিত করে। কল্যাণীর জীবনবোধের কারণে বাঙালি নারীর সামান্য থেকে অসামান্য হয়ে ওঠার দিকটি পাঠককে আন্দোলিত করে । উদ্দীপকে দেখা যায়, কথক তার ভালোবাসার মানুষকে আপন করে নিতে পারে না। ভালোবাসার মানুষ তাকে ভুল বোঝে। আপন করে নিতে না পারলেও দূর থেকে কথক তাকে ভালোবেসে যায়। মূলত কথকের সুপ্ত ভালোবাসা এখানে প্রকাশিত হয়েছে। দূর থেকে এভাবে ভালোবাসার কথা 'অপরিচিতা' গল্পে বলা হলেও এটি গল্পের একমাত্র দিক নয়।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে বিয়ের বিনীত আহ্বান এলেও কল্যাণী সম্মত হয় না। ফলে কাছে পেলেও একান্ত আপন করে প্রিয়াকে না পাওয়ার বেদনায় দগ্ধ হতে হয় অনুপমকে। তবে গল্পে শুধু এ বিষয় আলোচিত হয়নি। সেই সঙ্গে শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতা, যৌতুকের লোভে মামার বিবেকহীন আচরণ, কন্যার লগ্নভ্রষ্টা হওয়ার পরিস্থিতিতে কল্যাণীর বাবার ঋজু ব্যক্তিত্ব, কল্যাণীর সমাজচেতনা ও আত্মপ্রত্যয়সহ নানা বিষয় উঠে এসেছে। কিন্তু উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের অনেক বিষয়ই উপেক্ষিত 1 এখানে শুধু অনুপমের কল্যাণীকে আপন করে না পাওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। অতএব বলা যায়, “উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের আংশিক ভাব প্রতিফলিত হয়েছে”— উক্তিটি যথার্থ।