অপরিচিতা' গল্পের কাহিনি মূলত যৌতুক প্রথা ও এর বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।
'অপরিচিতা' গল্পে যৌতুক প্রথার ঘৃণ্য রূপটি ফুটে উঠেছে। এ প্রথা নারীকে পণ্য ও বিয়ে ব্যাপারটিকে বেচা-কেনার সম্পর্কে পরিণত করেছে। যৌতুকের লোভ যে মানুষের মানসিকতাকে কতটা হীন করে দিতে পারে তার প্রমাণ হলো অনুপমের মামার আচরণ।
উদ্দীপকে যৌতুকের কারণে সংসার ভাঙার কথা বলা হয়েছে। কন্যার বাবা- মায়েরা মেয়ের সুখ-চিন্তা করে বরপক্ষের যৌতুকের দাবি মেনে নেয়। 'অপরিচিতা' গল্পেও যৌতুকের এই দিকটি স্পষ্ট। অনুপমের মামা কন্যার গহনা যাচাই করার জন্য সেকরা সাথে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর এই আচরণ তাঁর যৌতুকলোভী মানসিকতাকে সবার সামনে উন্মুক্ত করেছে। অনুপমের মামার কাছেও কল্যাণী পণ্যের মতো ছিল আর তাই তো তার মাঝে ছিল দামে ঠকে না যাওয়ার নির্লজ্জ মানসিকতা। তাঁর আচরণের কারণে অনুপম কল্যাণীর বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যায়। এমনিভাবে ভেঙে যায় অনেক বৈবাহিক সম্পর্কও যার কথা উদ্দীপকে বলা হয়েছে।
উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পের সামাজিক কাঠামোর সাদৃশ্য এখানেই যে, উভয়ক্ষেত্রেই সম্পর্কের গুরুত্বের চেয়ে যৌতুক প্রথার প্রভাব বেশি। উদ্দীপকে নিহিত সামাজিক কাঠামো ও আলোচ্য গল্পের সামাজিক কাঠামো একই। উভয়ক্ষেত্রেই অমানবিক যৌতুক প্রথার প্রভাব বিদ্যমান। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।