অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ের পর তার পরিস্থিতি উদ্দীপকের বিজলীর মতো হলেও কল্যাণী ওই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসত বলে আমি মনে করি।
'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী আত্মসম্মানে বলীয়ান এক নারী। তার সঙ্গে ঘটা অন্যায়কে প্রতিহত করার দৃঢ়তা তার রয়েছে। বিয়ের দিনে তার পিতা বিয়ে ভেঙে দেওয়ার পর সে দেশসেবায় নিয়োজিত হয়েছে। পুনরায় বিয়ে করে নিজেকে মাতৃ-আজ্ঞা থেকে দূরে সরিয়ে রাখেনি।
উদ্দীপকের বিজলীর সঙ্গে হাশিমের বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার পরিবার বিজলীর ওপর অত্যাচার করতে থাকে। অত্যাচারের কারণ হলো যৌতুকের টাকা পরিশোধ না করা। এ অত্যাচার বিজলী নীরবে সহ্য করতে থাকে। অন্যদিকে আলোচ্য গল্পের কল্যাণীর হবু বরের পরিবারও ছিল যৌতুকলোভী। এ কারণে কল্যাণীর পিতা দৃঢ়তার সাথে বিয়ের সম্বন্ধটি ভেঙে দিয়েছিল। অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে যদি হয়ে যেত, নিঃসন্দেহে সেও বিজলীর ন্যায় নির্যাতনের শিকার হতো। কেননা অনুপমের পরিবারও ছিল যৌতুকলোভী ও নীচু মনের অধিকারী। কিন্তু কল্যাণী ছিল দৃঢ়চেতা প্রতিবাদী নারী। সে অনুপমের পরিবারের নিপীড়ন থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা অবশ্যই করত।
কল্যাণীর মাঝে ফুটে ওঠা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এটাই নিশ্চিত করে, সে বিজলীর ন্যায় নীরবে অত্যাচার সহ্য করত না। আত্মসম্মানের শক্তি নিয়ে একসময় সে ওই অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতই। তাই বলা যায়, অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে হলে তার পরিণতি বিজলীর পরিণতির দিকে মোড় নিলেও তা থেকে নিজেকে মুক্ত করত কল্যাণী।