• উদ্দীপকের কিশোর ও অনন্যাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম ও কল্যাণীকে নিয়ে রচিত ঘটনাপ্রবাহে 'সম্পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।
• সমাজে জেঁকে বসা ঘৃণ্য যৌতুকপ্রথার করাল গ্রাস থেকে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে রক্ষা করতে এই প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। কিন্তু কন্যার লগ্নভ্রষ্টতা, সমাজে অসম্মানের ভয়ে অনেকে প্রতিবাদ করে না। কেউ কেউ সব লৌকিকতাকে অগ্রাহ্য করে প্রতিবাদ করে বসেন।
• উদ্দীপকে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত কিশোর শিক্ষিত হলেও পরনির্ভরশীল। সে অন্যের লেন্সে সমাজকে দেখে। পরিবারের যৌতুকলোভী চেতনাকে মেনে নিয়ে অনন্যাকে বিয়ে করতে যায়। কিন্তু তাদের অতিরিক্ত লোভের কারণে বিয়ে ভেঙে যায়। 'অপরিচিতা' গল্পের মূলভাবটিই যেন প্রতিফলিত হয়েছে উদ্দীপকে। এ গল্পে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর উপাধি অর্জন করেও অনুপম মায়ের কোলসংলগ্ন শিশুমাত্র। তার সবকিছুই নির্ধারণ করে তার মা ও মামা। কল্যাণীকে বিয়ে করতে গেলে তাদের একগুঁয়েমি ভাব ও অতিরিক্ত লোভের কারণে কন্যার পিতা শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দেন, যা উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
• 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম যেমন শিক্ষিত হয়েও ব্যক্তিত্বহীন, উদ্দীপকের কিশোরও তেমনই। উভয়ের পরিবারের যৌতুকলোভী মনোভাবের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করতে পারেনি। একই কারণে দুজনের বিয়েই ভেঙে গেছে। 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন সামাজিকতা, লৌকিকতা ও কুসংস্কারকে অগ্রাহ্য করে অনুপমকে প্রত্যাখ্যান করে যে নতুন সময়ের আবির্ভাবের ইঙ্গিত দিয়েছে সেই নতুন সময়ের ঘটনা তুলে ধরেছে উদ্দীপকটি। সব দিক দিয়ে উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পে অভিন্নতা প্রকাশ পেয়েছে।