• উদ্দীপকের বিষয়বস্তু অনুসারে 'অপরিচিতা' গল্পের নামকরণ যথার্থ ও সার্থক হয়েছে।
• বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মানুষের যাবতীয় সৌন্দর্যের শ্রেষ্ঠতম প্রকাশ। বাইরে একজন যতই সুশ্রী ও শিক্ষিত হোক না কেন, সে যদি বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী না হয়, তবে তার কোনো মূল্য নেই।
• 'অপরিচিতা' গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে তার নাম কল্যাণী। উত্তম পুরুষের জবানিতে লেখা এ গল্পে পিপ্তার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ এবং কন্যার দেশচেতনাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের জাগরণ ঘটেছে। এ গল্পের গল্পকথক অনুপম ব্যক্তিত্বরহিত বাঙালি যুবক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর উপাধি অর্জন করেও সে ব্যক্তিত্বরহিত, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। এ কারণেই তাকে বিয়ের আসর থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। দেওয়ালের ওপাশে থাকলেও কল্যাণীকে সে দেখতে পায়নি। অপরিচিতাকে নিয়ে সে অনেকভাবে ভেবেছে, কল্পনা করেছে। কারণ হরিশের কাছে বর্ণনা শুনে সে যাকে পছন্দ করেছিল তাকে তার মন থেকে কিছুতেই টেনে বের করে দিতে পারেনি। তার সমস্ত মন সেই অপরিচিতার পানে ছুটে গিয়েছে। উদ্দীপকের বিষয়বস্তু অনুসারে এই গল্পের নামকরণ যথার্থ হয়েছে।
• 'অপরিচিতা' গল্পের নামকরণ করা হয়েছে এ গল্পের কথক অনুপমের উক্তির ওপর নির্ভর করে। অনুপম বলেছে- "ওগো অপরিচিতা- তোমার পরিচয়ের শেষ হইল না, শেষ হইবে না, কিন্তু ভাগ্য আমার ভালো, এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।” গল্পের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে অনুপমের কাছে কল্যাণী অপরিচিতাই রয়ে যায় এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর আলোকে বিচার করলে দেখা যায়, এ গল্পের নামকরণ অন্তর্নিহিত ইঙ্গিতপূর্ণ 'অপরিচিতা' নামটিই গল্পের নামকরণ হিসেবে যথার্থ হয়েছে।