সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিক থেকে ""অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর চেয়ে উদ্দীপকের রুনার জীবনচেতনা অধিকতর আধুনিক।"-মন্তব্যটি যথার্থ।
'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী উনিশ শতকের সংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের এক নারী চরিত্র। বিবাহ সভায় বরপক্ষের যৌতুক সম্পর্কীয় দাবি-. দাওয়ার প্রতিবাদে তার বাবা বিয়ে ভেঙে দেন। বাবার সিদ্ধান্তকে সেও সাদরে গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের রুনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী একজন আধুনিক নারী। ডাক্তার পাত্রের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হলে বরপক্ষ বিশ লক্ষ টাকার যৌতুক দাবি করে। পনেরো লক্ষ টাকা জোগাড় হলেও তাতে বরপক্ষ টালবাহানা শুরু করে। এতে ব্যথিত হয়ে রুনা বিয়ে ভেঙে দেয় এবং নিজে স্বাবলম্বী না হয়ে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ছয় মাসের মধ্যেই সে বিচারক হিসেবে চাকরি পায়। অন্যদিকে 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণী আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন ব্যক্তিত্বময়ী নারী হলেও উদ্দীপকের রুনার মতো বলিষ্ঠ ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী নিজে বিয়ে ভাঙার দুঃসাহসিকতা দেখায়নি। বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তার বাবার। বিয়ে ভাঙার পরে নিজেকে আত্মউন্নয়ন তথা স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং সে বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা করে, যা মোটেই আধুনিক মনোভাবের পরিচয় নয়। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের রুনা বরপক্ষের অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে নিজে সোচ্চার হয়েছে, নিজেই বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই বলা যায়, 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর চেয়ে উদ্দীপকের রুনার জীবনচেতনা অধিকতর আধুনিক।"- মন্তব্যটি যথার্থ।