অপরিচিত গল্পের কল্যাণী যৌতুকের কারণে যেভাবে নিগৃহীত হয়েছে উদ্দীপকের মাধুরী সেই অর্থে সৌভাগ্যবতি। উক্তিটি যথার্থ।
অপরিতা গল্পের অপরাজিতা বিশ্লেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্তের অধিকার এই নারীর কান্ঠে বর্ণিত হয়েছে তার নাম কল্যাণী। অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে। এমন নারীদের গল্প ইতিপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ কিন্তু এই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথা শোনালেন তিনি। এই গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কল্যাণী স্বতন্ত্র দীক্ষা ও আচরণে সামাজিক ঘিরে বসা ঘৃণ্য যৌথ প্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছেন। পিতার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ এবং কন্যা কল্যাণীর দেশ চেতনায় ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি সার্থক। যৌতুকের কারণে কল্যাণীকে বিয়ের আসর থেকে উঠে যেতে হয়। কল্যাণীর হবু বর অনুপম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে তার মামার সাথে প্রতিবাদ করেনি কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যায়, মাধুরী একজন সৌভাগ্যবতী। কেননা তার শশুর শাশুড়ি যৌতুকের জন্য বকাঝকা করলেও তার স্বামী এর বিরোধিতা করেছেন।
সুতরাং বলা যায়, অপরিচিতা গল্পের কল্যাণী যৌতুকের কারণে যেভাবে নিগৃহীত হয়েছে উদ্দীপকের মাধুরী সেই অর্থে সৌভাগ্যবতী।