বক্তব্য বিষয়ের দিক থেকে বলা যায় "নারীর নানাবিধ সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তাহমিনা ও কল্যাণী চরিত্রের ব্যক্তিসত্তার জাগরণের অনুঘটক"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'অপরিচিতা' গল্পে সমাজে গেড়ে বসা অমানবিক যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। পুরুষতন্ত্রের চাপিয়ে দেওয়া যৌতুক প্রথাকে কল্যাণী বা তার পিতা কেউ-ই মেনে নেননি। পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্রবীক্ষা ও আচরণে ইতিবাচক এক নতুন সময়ের আবির্ভাবকে ইঙ্গিতবহ করে তুলেছে।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, হাশেম সাহেবের মেয়ে তাহমিনার গায়ের রং কালো হওয়ার কারণে পরপর চারবার তার বিয়ে ভেঙে যায়। সমাজে গেড়ে বসা কুসংস্কারের কারণে সমাজ এখনো কালো কিংবা শ্যামলা মেয়েদের পছন্দ করতে চায় না। বারবার অবহেলিত হয়ে তাহমিনা বিয়ের পিঁড়িতে বসার চিন্তা পরিহার করে এবং নারীশিক্ষার উন্নয়নে নিজের জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সমাজের প্রতিবন্ধকতা থেকেই তার ব্যক্তিসত্তার জাগরণ ঘটে এবং সে অন্যকেও সচেতন করে তুলতে চায়। 'অপরিচিতা' গল্পেও কল্যাণী চরিত্রে ব্যক্তিসত্তার জাগরণ ঘটতে দেখা যায়, যার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে সমাজের কিছু লোভী মানুষের হীন মানসিকতা।
'অপরিচিতা' গল্পের ঘটনায় দেখা যায়, গল্পের নায়ক অনুপম বরযাত্রী নিয়ে কন্যা কল্যাণীর বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে। সেখানে গিয়ে যৌতুকপ্রথার নামে দর কষাকষি ক্ষনের বাবার দেওয়া গয়না সেকরা দিয়ে পরখ করানোর মতো জঘন্য মানসিকতা কল্যাণী বাতার পিতা শম্ভুনাথ সেন কারওই পছন্দ হয়নি। তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এবং প্রতিবাদ স্বরূপ বিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই বলা যায়, নারীর প্রতি নানাবিধ সামাজিক প্রতিবন্ধকতাই তাহমিনা ও কল্যাণী চরিত্রের ব্যক্তিসত্তার জাগরণ ঘটাতে সাহায্য করেছে।