তরুণী আহ্লাদিকে আগলে রাখা এবং সামাজিক অবস্থানের কারণে উদ্দীপকের জয়গুনের উপার্জনের পথ ও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসির উপার্জনের পথ ভিন্নতর।
'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদিকে নিয়ে মাসি-পিসির জীবনসংগ্রাম বর্ণিত হয়েছে। আহ্লাদির মাসি-পিসি দুজনেই বিধবা ও নিঃস্ব। তারা দুজনেই দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত। তবু তারা পিতৃ-মাতৃহীন আহ্লাদিকে মাতৃস্নেহে আগলে রাখে। জীবিকা নির্বাহের জন্য তারা অন্যের বাড়িতে ধান ভানে, কাঁথা সেলাই করে, ডালের বড়ি বেচে, হোগলা গাঁথে, শাক-পাতা বিক্রি করে। গ্রাম থেকে শাকসবজি-ফলমূল কিনে নিয়ে সালতি বেয়ে শহরের বাজারে বিক্রি করে তারা আহ্লাদিকে নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যায়।
উদ্দীপকে আকালের ভয়াবহতার মধ্যে এক নারীর সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার জীবনসংগ্রামের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে সন্তানদের নিয়ে, খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য জয়গুন জীবনসংগ্রাম শুরু করে। শহরে গিয়ে খাবার হোটেলে কাজ নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে জয়গুন যা আয় করে তা দিয়ে সে সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকে। সন্তানদের উচ্চশিক্ষা ও নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন দেখে সে। এতে নানা লোকে নানা কথা বলে তাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। লোকেদের সেই অপমান জয়গুন গায়ে মাখে না। তার এই জীবনসংগ্রাম 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসির জীবনসংগ্রামের সঙ্গে মিল থাকলেও উপার্জনের পথ ভিন্ন। তারা গ্রাম থেকে শহরে তরিতরকারি ও ফলমূল নিয়ে আসে। বিক্রি করে আবার গ্রামে চলে যায়। এর জন্য বাজারের তোলা নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া করতে হয় সরকার বাবুর সঙ্গে। ফলে সব মিলিয়ে তাদের উপার্জনের পথটি খুবই সংগ্রামমুখর। আহ্লাদির গুন্ডা-বদমাশদের নজর থাকে বলে তাকেও নিরাপদে রাখতে তারা নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যায়। উদ্দীপকের এসব কারণে জয়গুন ও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসির উপার্জনের পথ ভিন্নতর।