উদ্দীপকে নারীর যে সংগ্রামী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা মাসি পিসি গল্পের মূলভাবকে ইঙ্গিত করে - কথাটি যথার্থ।
নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা অনেক কষ্টে জীবনধারণ করে। বিশেষ করে সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করে। তাদের মধ্যে নিম্নবিত্তের নারীরা চরম বৈষম্যের শিকার। কিছু লোভী, স্বার্থান্ধ নরপশু সেসব অসহায় মানুষকে ক্ষতি করার অপপ্রয়াস চালায়। ফলে 'মাসি-পিসি' গল্পের মূল বিষয়বস্তু হলো স্বামীর নির্মম নির্যাতনের তারা একধরনের নিরাপত্তাহীনতায় প্রতিনিয়ত ভুগতে থাকে। শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুণীর করুণ কাহিনি। আহ্লাদি নামের ওই তরুণীর মাসি-পিসি দুজনই বিধবা ও নিঃস্ব। আহ্লাদিকে নিয়েই তাদের সংসার। আহ্লাদির স্বামী জগু আহ্লাদির ওপর অমানুষিক নির্যাতন। ঠিকমতো খেতে দিত না, পরতে দিত না। বেদম মারধর করত, কলকেপোড়া ছ্যাকা দিত বলে মাসি-পিসি আহ্লাদিকে জগুর কাছে যেতে দেয় না। অন্যদিকে লালসা উন্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুণ্ডা-বদমাশদের আক্রমণ থেকে বারবার আহ্লাদিকে রক্ষা করত মাসি-পিসি। এই দায়িত্বশীল ও মানবিক জীবনযুদ্ধ খুবই প্রশংসনীয়। পোষা নৌকা চালনা ও সবজির ব্যবসায় করা প্রভৃতি এ গল্পের বৈচিত্র্যময় দিক।
উদ্দীপকে সালমার বাবা মারা যাওয়ার পর দিশেহারা অসহায় সালমার মা এবং খালা সালমাকে লালন পালন করে। দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শী স্মৃতি, জীবন নির্বাহের কঠিন সংগ্রাম, নারী হয়ে চালায়। তবু তাদের সালমাকে ঘিরে জীবন আবর্ত হয়। সালমার ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, সামাজিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ নিয়েই দিনযাপন মা খালার।
'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদিকে নিয়েই মাসি-পিসির জীবন। সমাজের মানুষদের কত অত্যাচার, কত কষ্ট সহ্য করে মাসি-পিসি সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। লক্ষ্য শুধু বেঁচে থাকা। তাদের সংগ্রামী চেতনাই পরিলক্ষিত হয়েছে গল্পে। উদ্দীপকে সালমার মা খালার একমাত্র সম্বল সালমাকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছে নিরন্তর। তাই প্রমাণিত হয় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।