'মাসি-পিসি' পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হওয়ায় উদ্দীপকে গল্পের মূলভাব আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা অসহায় ও বঞ্চিত হয়ে চলেছে নিরন্তন। এই বঞ্চিত নারী সমাজের প্রতিনিধি মাসি-পিসি ও আহ্লাদি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ব্যাধিগ্রস্ত পুরুষশাসিত সমাজের কাছে তারা হার মানেনি। মাসি-পিসি নিজেদের জীবিকার ব্যবস্থা নিজেরাই করেছে। আবার পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। সমাজের লালসা-উন্মত্ত শ্রেণির কবল থেকে রক্ষা পেতে বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করেছে।
উদ্দীপকের বুজিকে তার পরিবার বনিয়াদি ঘরে অনেক আশা করে বিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এই বিয়ে তার জীবনে সুখ এনে দিতে পারেনি। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লাঞ্ছনা ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অকালেই তাকে প্রাণ হারাতে হয়।
উদ্দীপকে পুরুষশাসিত সমাজে নারীর প্রতি অমানবিক আচরণের করুণ পরিণতি দেখানো হয়েছে। এইসব নির্যাতিত নারীদের জীবনবাস্তবতা 'মাসি-পিসি' গল্পেও ফুটে উঠেছে, তবে এখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারীর সামাজিক সচেতনমূলক প্রতিরোধের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে অত্যাচারী স্বামী এবং লালসা উন্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুন্ডা-বদমাশদের আক্রমণ থেকে আহ্লাদিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে অসহায় দুই বিধবার দায়িত্বশীল ও মানবিক জীবনযুদ্ধ খুবই প্রশংসনীয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নারী নির্যাতন এবং সামাজিকভাবে নারীর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি উঠে এলেও 'মাসি-পিসি' গল্পের মূলভাবে ফুটে ওঠা নারীর অস্তিত্বরক্ষায় তার সাহসী পদক্ষেপের বিষয়টি অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকটি গল্পের মূলভাবকে আংশিকভাবে ধারণ করেছে।