“উদ্দীপকের সীমা এবং 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি উভয়েই নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতিনিধি।”—মন্তব্যটি যথার্থ।
'মাসি-পিসি' গল্পে এমন এক পুরুষশাসিত সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে যেখানে নারীরা পুরুষদের হীন মানসিকতার জন্য পদে পদে অন্যায় ও অত্যাচারের শিকার। আহ্লাদির স্বামী জগু আহ্লাদির ওপর নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আবার সম্পত্তির ভোলে আহ্লাদিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ভয়-ভীতি দেখায়। তাছাড়া এই বঞ্চিত নারী সমাজের প্রতিনিধি মাসি, পিসি ও আহ্লাদিকে নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষায় সংগ্রাম করতে হয়েছে অত্যাচারী জগু, লালসা-উম্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুন্ডা-বদমাশদের বিপক্ষে।
উদ্দীপকে সীমা শৈশবে মা-বাবাকে হারিয়ে চাচার আশ্রয়ে ছিল। সেখানে থাকাকালীন তার বাল্যবিবাহ হয়। স্বামীর ঘরে অত্যাচার-নির্যাতন, পরে তালাক। চাচার তেমন সহযোগিতা না পেলেও দমেনি সীমা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নানা ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হতে হয় তাকে। অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়। টিউশনি করে লেখাপড়া চালিয়ে যায় সে। সীমা এখন মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।
মূলত পুরুষ সমাজের হীনমানসিকতার জন্যই টিকে থাকার লড়াইয়ে নারীকে অবতীর্ণ হতে হয়, যা কখনো কাম্য নয়। পুরুষদের আন্তরিকতা এবং সহযোগিতা নারীর জীবনকে অনেক সহজ ও নিরাপদ করতে পারে যা 'মাসি-পিসি' গল্পেও অনুপস্থিত। এই গল্পে স্বামী, চাচার অবহেলার কারণ উদ্দীপকের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের হীনমানসিকতার রূপটি ফুটে উঠেছে।
“উদ্দীপকের সীমা এবং 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি উভয়েই নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতিনিধি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।