"উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্পের জীবনযুদ্ধ এক হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের দেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করে। তাই তাদের সবার আর্থ-সামাজিক অবস্থা এক রকম নয়। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদেরকে জীবনযাপন করতে হয়।
উদ্দীপকে তাহেরা নামের এক সংগ্রামী নারীর কথা বলা হয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর চার সন্তানকে মানুষ করতে তাকে গলদঘর্ম হতে হয়। এরই মধ্যে তার নদী তীরবর্তী বাড়িটাও বন্যার পানিতে ভেসে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে রাস্তার পাশের বাঁধে তাকে আশ্রয় নিতে হয়। এমতাবস্থায় দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে শুরু হয় একদল দুর্বৃত্তের উৎপাত। ফলে নানামুখী সংকট নিয়ে তাকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। 'মাসি-পিসি' গল্পে মাসি-পিসি অসহায় বিধবা। স্বামীর মৃত্যুর পর আহ্লাদিদের বাড়িতে তাদের আশ্রয় হলেও নিজেদের ভরণপোষণের খরচ জোগাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। এরই ভেতর সন্তান-সম্ভবা আহ্লাদির দায়িত্ব এসে তাদের উপর বর্তায়।
'মাসি-পিসি' গল্পে মাসি-পিসির সঙ্গে তাহেরার জীবনযুদ্ধের দিকটি মিলে গেলেও তার চেয়ে মাসি-পিসির জীবনসংগ্রাম আরও বেশি কঠিন। কেননা, তাহেরাকে সরাসরি দুর্বৃত্তদের সম্মুখীন হতে না হলেও মাসি-পিসিকে আহ্লাদির জন্য নানা রকম বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। আহ্লাদি ও তার বাড়িকে কবজা করতে দুর্বৃত্তরা উঠেপড়ে লাগে। এমতাবস্থায় তাদের হাত থেকে আহ্লাদিকে বাঁচাতে মাসি-পিসিকে লড়াই করতে হয়। সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।