'মাসি-পিসি' গল্পে জীবনসংগ্রামে নারীর সাহসী ভূমিকার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে বলে উদ্দীপকের ছুটি রাণী ও গল্পের মাসি-পিসি একে অপরের পরিপূরক নয় ।
মাসি ও পিসির কঠোর জীবনসংগ্রাম আলোচ্য গল্পের একটি প্রধান উপজীব্য বিষয় । মাসি-পিসি সর্বদা অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত। নারী হয়েও টিকে থাকার সংগ্রামে তারা অপরাজেয় সৈনিক। বিরূপ সামাজিক পরিস্থিতি থেকে তারা আহ্লাদিকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর ।
উদ্দীপকের নিঃসন্তান বিধবা ছুটি রাণী আর্থিকভাবে সচ্ছল। একদিন প্রাতঃভ্রমণকালে তিনি স্বামীর অত্যাচারের শিকার একটি মেয়েকে দেখতে পান এবং তাকে মাতৃস্নেহে আশ্রয় দেন। অত্যাচারী স্বামীর হাত থেকে মেয়েটিকে রক্ষা করে তিনি তার অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি তিনি তার সব সম্পত্তি মেয়েটিকে দান করেন। অসহায় মেয়েটির প্রতি তিনি যে মমতা দেখিয়েছেন, তা 'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদির প্রতি মাসি-পিসির মমতার অনুরূপ ।
'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদি মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত এবং স্বামীকর্তৃক নির্যাতিত এক অসহায় নারী । সংসারে মাসি-পিসিই তার একমাত্র আপনজন । তারা তাকে সন্তানের মতোই স্নেহ করে এবং তার নিরাপত্তার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকে। উদ্দীপকের বৃদ্ধা, ছুটি রাণীর মধ্যেও এই দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার দিকটি লক্ষ করা যায়। কিন্তু 'মাসি-পিসি' গল্পে প্রতিকূল পরিবেশে অসহায় দুই বিধবা নারীর টিকে থাকার সংগ্রামের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা আলোচ্য উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। এদিক বিবেচনায়, 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসি উদ্দীপকের বৃদ্ধার পরিপূরক — মন্তব্যটি সর্বাংশে সঠিক নয় ।