উদ্দীপকের নানা-নানির অবস্থা মাসি ও পিসির মতোই হৃদয়বিদারক। কারণ, আপনজনের নিদারুণ দুর্ভোগ তাদের মেনে নিতে হয় ।
'মাসি-পিসি' গল্পে মাসি-পিসির জীবন সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে। মাসি- পিসি দুজনই আহ্লাদির বাপের আশ্রয়ে থাকত। তাই আহ্লাদি পরিবারহারা হলে তারাই আহ্লাদির পাশে দাঁড়ায়। বাবা-মায়ের মতো আগলে রাখে। নিজেদের চেয়ে তারা আহ্লাদির প্রতি বেশি যত্নশীল। তাই স্বামীর দ্বারা পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদির বারবার নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং আহ্লাদির প্রতি লালসা-উন্নত জোতদার, দারোগা ও গুন্ডা-বদমায়েশদের আক্রমণ মাসি ও পিসির জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
উদ্দীপকের নানা-নানি তাদের নাতনি জোবাইদাকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর জোবাইদাকে তার নানা- নানিই বড়ো করে। তারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে পাশের গ্রামে বিয়ে দেয়। কিন্তু অত্যাচারী স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে আবার নানা-নানির কাছে ফিরে আসে। জোবাইদার জীবনের এই দুঃখ- কষ্ট সত্যিই তার নানা-নানির জন্য কষ্টকর।
আহ্লাদির জীবনের করুণ পরিণতি মাসি-পিসির জন্য কষ্টের। তাইতো তারা আহ্লাদিকে কিছুতেই স্বামীর সংসারে পাঠাতে চায় না। স্বামীর অত্যাচার এবং বিরূপ পরিবেশ থেকে আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করে। অন্যদিকে জোবাইদাকে তার নানা-নানি নিজের সন্তানের মতো আগলে বড়ো করেছেন। তার নিদারুণ দুর্ভোগ সত্যিই তাদের জন্য অনেক কষ্টের। তাইতো পরমযত্নে তারা অত্যাচারিত জোবাইদাকে নিজেদের কাছে রাখেন । আপনজনের জীবনের করুণ পরিণতি তাদের জীবনে সে অসহায়ত্ব নিয়ে আসে তা সত্যই হৃদয়বিদারক। সুতরাং, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।