'মাসি-পিসি' গল্পে মাসি-পিসি যেভাবে গ্রামবাসীদের নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করে, আলোচ্য উদ্দীপকেও তেমনি সম্মিলিত প্রতিরোধের চিত্র লক্ষ করা যায়।
আলোচ্য গল্পের মাসি-পিসি শোষিত ও নির্যাতিত শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেছে। লালসা-উন্মত্ত জোতদার, গুন্ডা ও বদমাশদের হাত থেকে আহ্লাদিকে রক্ষা করতে তাদের সবসময় সজাগ থাকতে হয়। রাতের আঁধারে জোতদারের গুন্ডারা কৌশলে আহ্লাদিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য এলে মাসি-পিসি গ্রামবাসীর সহায়তায় তাদের প্রতিহত করে। এতে শত্রুরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ, অন্যায় শক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের জয় হয়। উদ্দীপকে গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধের চিত্র পরিলক্ষিত হয়। গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি গওহর মণ্ডল অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক আসমাকে পুত্রবধূ বানাতে চায় এবং তার পরিবারকে ভীতি প্রদর্শন করে। এর বিরুদ্ধে আসমার বন্ধুবান্ধব, স্থানীয় সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা দলবেঁধে স্কুলে যায় এবং পালা করে আসমার বাড়ি পাহারা দেয়। গ্রামাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধের কারণে গওহর মণ্ডল পিছু হটে এবং তার অন্যায় অভিলাষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
আমাদের সমাজে একশ্রেণির মানুষ রয়েছে, যারা ক্ষমতা নিজেদের কুক্ষিগত করে রাখে । ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণির ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। আলোচ্য গল্পের গোকুল, দারোগা ও চৌকিদার এই শোষক শ্রেণির প্রতিভূ। গল্পে গ্রামবাসী এই শক্তির বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মাসি-পিসি তাদের সহযোগিতা নিয়ে অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করেছে। উদ্দীপকেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে । অন্যায়কারী যত শক্তিশালীই হোক না কেন সম্মিলিত শক্তির কাছে তুচ্ছ । এ সত্যই প্রমাণ করেছে আলোচ্য গল্প ও উদ্দীপকের গ্রামবাসী । সমাজ থেকে অন্যায়কে দূরীভূত করতে হলে তাই প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিরোধ । উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।