উদ্দীপকে ইমনের চিকিৎসায় ডাক্তার ক্রায়োসার্জারি ব্যবহার করেন।
ক্রায়ো শব্দের অর্থ খুব শীতল এবং সার্জারি অর্থ হাতে করা। অর্থ্যাৎ, ক্রায়োসার্জারি হলো এমন চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে অটি ঠাণ্ডা তাপমাত্রার সাহায্যে অস্বাভাবিক ও অসুস্থ টিস্যু ধবংস করা যায়। এ প্রক্রিয়ায় তরল নাইট্রোজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, আর্গন ও ডাই মিথাইল-ইথার-প্রোপেন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। ক্রায়ো এর সাহায্যে আক্রান্ত টিস্যুর উপর এসব পদার্থ প্রলেপ দেওয়া হয়।
ক্রায়োথেরাপিতে টিউমার টিস্যুর তাপমাত্রা ১২ সেকেন্ডের মধ্যে কমিয়ে ১২০~-১৬৫° সে তাপমাত্রায় আনা হয়। এ সময় একটি সূচের প্রান্ত দ্বারা টিস্যুর ভেতর খুব দ্রুত আর্গন গ্যাসের প্রলেপ দেওয়া হয়। তাপমাত্রা অনেক কমে যাওয়ায় কোষের পানি জমাট বদ্ধ হয়ে টিউমারটি আটকা পড়ে গেলে হাতের রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। জমাটবদ্ধ অবস্থায় টিস্যুর ক্ষয় সম্পন্ন হয়। এরপর সূচের মাধ্যমে টিস্যুটিতে হিলিয়াম গ্যাস ঢুকিয়ে তাপমাত্রা ২০°-৪০° সে এ আনা হয়। তখন জমাটবদ্ধ টিউমার কোষটি গলে গিয়ে ধবংস হয়ে যায়। ত্বকের ছোট টিউমার, তিল, আঁচিল, ছোট ছোট ক্যান্সার ইত্যাদি ক্রায়োসার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। তাছাড়া, লিভার ক্যান্সার, বৃক্ক ক্যান্সার, প্রটেস্ট ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, মুখের ক্যান্সার, গ্রীবাদেশীয় গোলযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
কোনো প্রকারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকায় এ চিকিৎসা পদ্ধতি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। তবে রোগ ছড়িয়ে পড়েনি এমন ক্যান্সারের চিকিৎসায়ই কেবল এ পদ্ধতির জন্য কার্যকর।