উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ ড. মামুন যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন তা হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। কৃষিসম্পদ উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সহায়তা করছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
বিশ্বের অনেক দেশেরই জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য ঘাটতি একটি সাধারণ সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োগ করে খাদ্যশস্য বহুগুণে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এ বিষয়টি হাইব্রিড নামে বহুল পরিচিত। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুরূপে স্থানান্তর করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। আমাদের দেশেও এ প্রযুক্তির উপর বেশ কিছু সংস্থা কাজ করে অনেক উচ্চ ফলনশীল জাতের শস্যবীজ উৎপাদন করেছেন। এসব বীজ ব্যবহার করে শস্যও কয়েকগুণ হারে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। খাদ্যশস্য যেমন— ভুট্টা, ধান, তুলা, টমেটো, পেঁপেসহ অসংখ্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানো, আগাছা সহিষ্ণু, পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের মৎস্য সম্পদ (বিশেষত মাগুর, কার্প, তেলাপিয়া ইত্যাদি) বৃদ্ধির জন্য জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রাণীর আকার ও মাংস বৃদ্ধি, দুধে আমিষের পরিমাণ বাড়ানো, ভেড়ার পশম বাড়ানোর কাজে.. জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে ।
উপরের বর্ণনার আলোকে দেখা যাচ্ছে, উচ্চ গুণাগুণসম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত ও প্রাণিসম্পদ উদ্ভাবনের মাধ্যমে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সুতরাং বলা যায়, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি অপরিহার্য ।