উদ্দীপকের উল্লিখিত ল্যাবরেটরিতে ১ম কক্ষে জৈব তথ্যকে সাজিয়ে গুছিয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম তৈরি সংক্রান্ত গবেষণা প্রযুক্তিটি হলো বায়োইনফরমেটিক্স সিস্টেম এবং ২য় কক্ষে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ (DNA) তৈরি সংক্রান্ত গবেষণা হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
১. বায়োইনফরমেটিক্স হলো এমন একটি আন্তঃশাস্ত্রীয় ক্ষেত্র যা জীব সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে বুঝার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি এবং সফটওয়্যার টুলস উন্নয়ন করে।অন্যদিকে বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে কোন প্রাণির জিনোম কে নিজের সুবিধা অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়াই হল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
২. বায়োইনফরমেটিক্স এর উদ্দেশ্য হলো জৈবিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুধাবন করা। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরি করে বিশেষ জীনকে ক্রোমোজোমের DNA অনু থেকে পৃথক করে কাজে লাগানো।
৩. বায়োইনফরমেটিক্সের প্রধান কাজ হচ্ছে জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞানকে বিকশিত করার জন্য সফটওয়্যার তৈরি করা। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রধান কাজ হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ বা পরিবর্তিত জিনযুক্ত কোষে অন্য জীব থেকে কর্মক্ষম বা ভালো জীন সংস্থাপন করে কর্মক্ষমহীন জীবটিকে কর্মক্ষম করে তোলা।
৪. বায়োইনফরমেটিক্স প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন গবেষণা যেমন -সিকুয়েন্স, অ্যালাইনমেন্ট, ডিএনএ ম্যাপিং, ডি এন এ এনালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং জিনোম সমাগম, ড্রাগ নকশা, প্রোটিনের গঠন ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, জেনেটিক ইন্ঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন করেছে। চিকিৎসা, গবেষণা, শিল্প এবং কৃষিকাজ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক ইন্ঞ্জিনিয়ারিং-এর ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে।