• "উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের বিষয়ের সাদৃশ্য থাকলেও উপন্যাসের ভাবের গভীরতা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
• অশিক্ষা ও অসচেতনতার কারণে মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করে। এরই সুযোগ নেয় সমাজের একশ্রেণির স্বার্থপর মানুষ। তারা আত্মস্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্মের আশ্রয় নিয়ে তাদের ঠকায়।
• 'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামে এসে মজিদ একটি পুরানো কবরকে তথাকথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং তা ফেলে রাখার কারণে অশিক্ষিত গ্রামবাসীকে জাহেল, বে-এলেম, আনপাড়হ্ বলে শাসিয়েছে। তখন থেকেই তারা মাজার ও মজিদকে ভয় পায়। মজিদের কথামতো মাজারে গিয়ে তারা তাদের আকুতিমিনতি জানায়। সন্তানহীন, নারীরা মজিদের উদ্ভট চিকিৎসার অংশ হিসেবে মাজারের চারদিকে ঘোরে। তাদের কাছে মাজারের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকেও দেখা যায় এক ব্যক্তি নিজের প্রত্যাশা পূরণের জন্য বাঁধানো কবরে গিয়ে কান্নাকাটি করে। কবরে যিনি শুয়ে আছেন তিনি তার প্রার্থনা শুনে তার সমস্ত আশা পূরণ করবেন এটা তার বিশ্বাস। অথচ তার এ বিশ্বাসের কোনো প্রতিদান দেওয়ার ক্ষমতা কবরের নেই এই সত্য সে উপলব্ধি করতে পারে না। এ কারণেই তার সমস্ত কান্না ব্যর্থ হয়ে যায়।
• 'লালসালু' উপন্যাসে যুগ যুগ ধরে শেকড়গাড়া কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভীতির সঙ্গে সুস্থ জীবনাকাঙ্ক্ষার দ্বন্দ্ব প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের সরলতা ও ধর্মবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদের প্রতারণার দিক প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া নারীর প্রতি মজিদের লোলুপতা, হিংসাত্মক মনোভাব ও. অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, শোষিত ও দরিদ্র মানুষের জীবনবাস্তবতা ইত্যাদি বিষয় উপন্যাসে প্রকাশ পেয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে নেই। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।