• "ঘটনাগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের তুলনায় 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের উদ্দেশ্য সুদূরপ্রসারী"- উক্তিটি যথার্থ।
• সমাজের কিছু মানুষ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে। তারা অনেক সময় কৌশলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
• উদ্দীপকের সুজন একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক। গ্রামের অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে সে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। পাঠদানের পাশাপাশি গ্রামের যুবসমাজকেও নানা গঠনমূলক কাজে উৎসাহ দেয়। এতে তার গ্রামের ইমাম সাহেবও সানন্দে গ্রহণ করেন বিষয়টিকে এবং তাকে সমর্থন দেন। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ছিল ইমাম সাহেবের থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।
• 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একজন শঠ, প্রতারক, ভন্ডপির। ব্যক্তিস্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া এই ব্যক্তি জানে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষ সচেতন হয়ে যাবে, তার প্রভাব-প্রতিপত্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তাই সে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে যেকোনো কাজ করতেই প্রস্তুত ছিল। তাই আক্কাস গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে মজিদ তাতে বাধা দেয়। তাকে ধর্মীয় দিক থেকে আঘাত করে, যাতে অন্যরাও আবেগাপ্লুত হয়ে মজিদকেই সমর্থন করে। আর আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এসবের পেছনে মজিদের উদ্দেশ্য ছিল যে, প্রচলিত বিশ্বাসের কাঠামো ও প্রথাবদ্ধ জীবনধারাকে সে টিকিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু উদ্দীপকের ইমাম সাহেব তা চাননি। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথোপযুক্ত হয়েছে।