"উদ্দীপকের ভিক্ষুক ও 'লালসালু'র পির উভয়েই ব্যক্তিস্বার্থে অন্ধ।”- মন্তব্যটি যথার্থ, কেননা মানুষের সচ্ছল সময়ে তাদের আগমন ঘটে এবং আর্থিক স্বার্থই তাদের কাছে মুখ্য।
'লালসালু' উপন্যাসে বহুকাল থেকে বাংলার অশিক্ষিত সমাজে পিরপ্রথার জেঁকে বসার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সহজ-সরল মানুষের অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে পিরেরা তাদের স্বার্থ হাসিল করে। তারা মুরিদদের সুখের দিনে অর্থাৎ সচ্ছলতার সময়ে তাদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায়।
উদ্দীপকের উদরাজপুর গ্রামীণ বাজারের মানুষের হাতে ফসলের মৌসুমে টাকা থাকে। তখন দোকানগুলোতে ভিড় থাকে এবং ভিক্ষুকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। উদ্দীপকের এই ভিক্ষুকরা স্বার্থান্ধ। ফসলের মৌসুমে তাদের আনাগোনা বাড়ে। আর্থিক স্বার্থই এখানে মুখ্য। উদ্দীপকের এই ভিক্ষুকের মতো 'লালসালু' উপন্যাসের পিরও স্বার্থান্ধ। 'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, গৃহস্থদের গোলায় গোলায় যখন ধান ওঠে তখন দেশময় পিরদের সফর শুরু হয়। কারণ এই সময় খাতির-যত্ন ভালো হয়, মানুষের মেজাজ খোলাসা থাকে। যেবার আকাল পড়ে সেবার অতি ভক্ত মুরিদের ঘরেও দুদিন গা ঢেলে থাকতে ভরসা হয় না পিরদের। মহব্বতনগর অঞ্চলে যেবার অনেক ফসল হলো সেবার মহব্বতনগরের কাছেই আওয়ালপুরে এক খ্যাতিমান পিরের আগমন ঘটে। আসলে এই পির ব্যক্তিস্বার্থে অন্ধ।
উদ্দীপকের উদরাজপুরে আগত ভিক্ষুকরা আসে অর্থের লোভে। এরা আসলে ব্যক্তিস্বার্থে অন্ধ। 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত আওয়ালপুরের পিরও তেমনই ব্যক্তিস্বার্থে অন্ধ। সে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য যখন ভালো ফসল হয় তখন ধনবান মুরিদদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। তারা ধর্মান্ধ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অশিক্ষিত লোকদের ঠকিয়ে ধর্মের নাম স্বার্থ হাসিল করে। শুধু তাই নয়, তারা স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নানা রকম অলৌকিক ক্ষমতার মিথ্যে কাহিনি ও গুজব ছড়ায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের ভিক্ষুক ও 'লালসালু' উপন্যাসের পির উভয়েই ব্যক্তিস্বার্থে অন্ধ- একথা যথার্থ।