স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীলতার দিক বিবেচনায় “উদ্দীপকের রশিদ এবং 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী দুজন দুই মেরুর বাসিন্দা" মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র খালেক ব্যাপারী। প্রথম স্ত্রী বর্তমান থাকতেও দ্বিতীয় বিয়ে করে সে। শুধু তাই নয়, নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও কূটকৌশলী মজিদের কথায় সে আমেনা বিবিকে তালাক দেয়। এক্ষেত্রে স্ত্রীর ভবিষ্যতের কথা পর্যন্ত সে চিন্তা করেনি।
উদ্দীপকে রশিদ নামের এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। তার স্ত্রী মেরিনার সন্তান হচ্ছিল না। এ কারণে সন্তান লাভের আশায় প্রথমে সে পাশের গ্রামের এক পিরের কাছে যায়। সেখানে পির তাকে হতাশ করে তার স্ত্রীর সন্তান হবে না বলে জানায়। এমনকি তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার পরামর্শ দেয়। তবে বুদ্ধিমান ও মানবিক রশিদ এ অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের চিন্তা পরিহার করে স্ত্রীর পাশে থাকে এবং তাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যায়। অবশেষে ডাক্তারের চিকিৎসায় তারা সন্তান লাভে সমর্থ হয়। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাসে খালেক ব্যাপারীর ক্ষেত্রে এর ভিন্নরূপ পরিলক্ষিত হয়।
'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী তার প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির প্রতি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করে। মূলত, সন্তান হয়নি বলে বিবির দিকে তার মনোযোগ কম। তাছাড়া তাকে খুব একটা গুরুত্বও দেয় না সে। এ কারণেই কুচক্রী মজিদের কথায় আমেনা বিবিকে তালাক দিতে পিছপা হয় না সে। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের রশিদ একজন আদর্শ স্বামী। সন্তান হয়নি বলে স্ত্রীর প্রতি সে রুষ্ট নয়। এমনকি পাশের গ্রামের পির তার স্ত্রীর সন্তান হবে না বলে দ্বিতীয় বিয়ের পরামর্শ দিলেও তাতে কর্ণপাত করেনি সে। যেকোনো অবস্থায় সে নিজের স্ত্রীকেই গুরুত্ব দিয়েছে, যা আলোচ্য উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর মনোভাবের বিপরীত। সেই দিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।