অবস্থানগত দিক থেকে বলা যায় “উদ্দীপকের হাকিম এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত" মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে। শস্যহীন জনবহুল অঞ্চল থেকে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বাঁচার জন্য মজিদের মতো মানুষরা দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। জীবিকার তাগিদে তারা যেকোনো বৈধ-অবৈধ পথ বেছে নিতে দ্বিধা করে না।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে হাকিম জীবিকার তাগিদে শহরে গিয়ে রিকশা চালানো শুরু করে। তবো অধিক সম্পদের আশায় সে জড়িয়ে পড়ে অবৈধ ব্যাবসার সঙ্গে। জীবিকার তাগিদে অবৈধ ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার পেছনে তার মধ্যে কাজ করেছে নিজের অস্তিত্বকে রক্ষা করার তাগিদ, যা "লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে বাঁচার জন্য মজিদ যে খেলা খেলতে শুরু করে তা ছিল সাংঘাতিক। মজিদের মনে ভয় ছিল। কিন্তু নিজের অস্তিত্ব রক্ষার তাড়নায় সে ভয়কে উপেক্ষা করে প্রতারণার জাল বিস্তার করে। সে মনে করে- পৃথিবীতে অস্তিত্ব রক্ষার অধিকার তার আছে, হোক সেটা অবৈধ পথ, সেটি তার কাছে বিবেচ্য নয়। তাই সে গ্রামের মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারছন্নতাকে পুঁজি করে ধর্মব্যাবসা গড়ে তোলে। এখানে উদ্দীপকের হাকিম ও মজিদের অবৈধ পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদ সর্বাধিক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। পরিশেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হাকিম এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত।