"উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের সমগ্র বক্তব্যকে ধারণ করেনি।" মন্তব্যটি আমি স্বীকার করি।
'লালসালু' উপন্যাসে লেখক মজিদ চরিত্রটির মাধ্যমে সমাজের মুখোশধারী এবং ধর্মের নামে ব্যাবসা করা মানুষের চিত্র তুলে ধরেছেন। এখানে কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীর পির ও মাজারে বিশ্বাস, নারীর প্রতি অমানবিক আচরণ, পুরুষের একাধিক বিয়ে, সন্তান লাভে নারীর চেষ্টা ইত্যাদি বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য শিকড়হীন মজিদের অস্তিত্ব রক্ষায় ধর্মকে ব্যাবসার অবলম্বন হিসেবে নিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি ও সমাজের প্রধান হয়ে বসা।
উদ্দীপকের আইমান সমাজ থেকে সকল অন্যায়-অবিচার দূর করার লক্ষ্যে যুবসংগঠন তৈরি করে। সে নানা সামাজিক সংস্কার ও উন্নয়মূলক কাজে নিয়োজিত হয়। নির্বিচারে গাছ কাটা, অবৈধ ইটভাটা, অবৈধভাবে বালি তোলা প্রভৃতি অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়। কিন্তু প্রভাবশালীদের চক্রান্তে তারা ব্যর্থ হয়।
উদ্দীপকের আইমানের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের ইচ্ছাশক্তির সাদৃশ্য রয়েছে, যা 'লালসালু' উপন্যাসের একটিমাত্র দিক। এছাড়াও এই উপন্যাসে ধর্মান্ধতা, সংস্কারাচ্ছন্নতা, ধর্মব্যাবসা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, অসমবয়সের বিবাহ, ধূর্ত পির ও মাজার প্রথা, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রভৃতি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।